অধিকার।। অধিকার কাকে বলে? অধিকারের বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদগুলি আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।
•অধিকার কীঃ আমরা জানি যে,রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় অধিকার হলো একটি অত্যন্ত মৌলিক ধারণা বা বিষয়। আর সেই ধারণা বা বিষয়টি হলো এমন যা, সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ, আত্মোন্নতি এবং সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বা দাবি সমাজ স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক সুরক্ষিত, সেগুলোকে অধিকার বলা হয়। প্রসঙ্গগতরাষ্ট্রবিজ্ঞানী লাস্কি -র মতে- "অধিকার হলো সমাজজীবনের সেই সমস্ত শর্তাবলী, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সাহায্য করে।"
আসলে অধিকার শুধুমাত্র ব্যক্তির খেয়ালিপনা বা দাবি নয়; এর পেছনে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং নৈতিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে। কারণ অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট- যেখানে একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
•অধিকারের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধিকারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই দুটি অধিকার হলো-নৈতিক অধিকার এবং আইনি অধিকার। তবে পরবর্তীকালে আইনি অধিকারকে আবার কয়েকটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়েছে। আর সেই আইনি অধিকারের উপরিভাগগুলি হলো-
ক) নৈতিক অধিকারঃ যে সমস্ত অধিকার মানুষের নৈতিক চেতনা, বিচারবুদ্ধি ও মানবতাবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, সেগুলোকে নৈতিক অধিকার বলে।এগুলির পেছনে কোনো আইনগত বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা বলবৎযোগ্যতার ক্ষমতা থাকে না। যেমন উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি-পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, দরিদ্রকে সাহায্য করা ইত্যাদি। সমাজ এগুলিকে সমর্থন করলেও রাষ্ট্র সরাসরি আইন প্রণয়ন করে এগুলো বলবৎ করতে পারে না।
খ) আইনি অধিকারঃ আইনি অধিকার হলো সেই অধিকার- যে সমস্ত অধিকার দেশের আইনসভা দ্বারা স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা সুরক্ষিত ও বলবৎযোগ্য, সেগুলিকে আইনি অধিকার বলে। আর এখানে আইন ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করে। আবার এই আইনি অধিকার গুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। সেই অধিকার গুলি হলো-
১)প্রাকৃতিক অধিকারঃ প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন লক প্রমুখ চিন্তাবিদদের মতে, মানুষ জন্মগতভাবে কিছু অধিকার নিয়ে পৃথিবীতে আসে, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্ব থেকেই বিদ্যমান। আর এখানে আমরা উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি-জীবনধারণের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার এবং সম্পত্তির অধিকার। বর্তমানে এগুলো সংবিধান স্বীকৃত আইনি অধিকারের রূপ নিয়েছে।
২) রাজনৈতিক অধিকারঃ যে সমস্ত অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়, সেগুলিকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। আর এই সকল রাজনৈতিক অধিকার গুলি হলো -
ক ) ভোটাধিকার।নিজ পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার।
খ ) নির্বাচিত হওয়ার অধিকার। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার।
গ ) সরকারের সমালোচনার অধিকার: সরকারি নীতির বিরোধিতা বা সমালোচনা করার অধিকার।
ঘ ) সরকারি পদ অলংকৃত করার অধিকার: যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার।
৩)অর্থনৈতিক অধিকারঃ আমাদের সমাজে বসবাস্থিত মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে অধিকারগুলি অত্যন্ত জরুরি, সেগুলিকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না। আর সেখানে সেই অর্থনৈতিক অধিকার গুলি হলো -
• কাজের অধিকার। উপযুক্ত পারিশ্রমিকে কাজ পাওয়ার অধিকার।
• অবকাশ ও বিশ্রামের অধিকার। অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে মুক্তির জন্য বিশ্রামের অধিকার।
• অভাব ও অনাহার থেকে মুক্তির অধিকার। সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার।
৩) অন্যান্য অধিকারঃ রাষ্ট্রে বসবাসস্থিত মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো সামাজিক অধিকার। যেখানে সমাজে শান্তিতে ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য যে অধিকারগুলি ভীষণ প্রয়োজন। আর সেই সামাজিক অধিকার গুলি হলো- আইনের চোখে সমতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার অধিকার। এছাড়াও আছে-সাংস্কৃতিক অধিকার। আর এই অধিকারটি নিজ ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রচারের অধিকার।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সবশেষে আমরা বলতে পারি যে, অধিকার হলো মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের মূল চাবিকাঠি। যা ছাড়া ব্যক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ কখনো সম্ভব নয়। আর সে কারণে অধ্যাপক লাস্কি যথার্থই বলেছেন- রাষ্ট্র তার প্রদত্ত অধিকারের মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তির অধিকারগুলি সুরক্ষিত থাকলেই কেবল সুনাগরিক গড়ে উঠতে পারে এবং সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধিত হয়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.
Comments
Post a Comment