Skip to main content

Posts

শাক্তপদ রচনায় রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের পদের মধ্যে সুর ও মেজাজের মূল পার্থক্য কী?আলোচনা করো।

শাক্তপদ রচনায় রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের পদের মধ্যে সুর ও মেজাজের মূল পার্থক্য কী?আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা পদাবলী সাহিত্যের ইতিহাসে বৈষ্ণব পদাবলীর পদপ্রান্ত ছুঁয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে ভক্তিরসাশ্রিত ও মানবতাবাদী গীতিকাব্যধারার সূচনা হয়েছিল, তা হলো শাক্ত পদাবলী।এই ধারাকে দুটি স্বর্ণশিখরে উন্নীত করেছিলেন দুই মহামানব—সাধককবি রামপ্রসাদ সেন (আনুমানিক ১৭২০-১৭৮১) এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (১৭৭২-১৮২১)।বিশিষ্ট সমালোচক প্রদীপ বিশ্বাসের মতে- “ বৈষ্ণব পদাবলী রচনায় চণ্ডীদাস ও গোবিন্দদাস কবিরাজের যে পার্থক্য, শাক্তপদাবলী রচনায় রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের মধ্যেও সেই পার্থক্য”।        আসলে রামপ্রসাদ যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত ও ভাবতন্ময় সাধক, কমলাকান্ত সেখানে সচেতন কবি ও পণ্ডিত শিল্পী।আর নিম্নে তাঁদের পদাবালীর ‘সুর’ ও ‘মেজাজ’-এর মূল পার্থক্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-    ১) শাক্ত পদাবলীর সুরধারা অনুসা...

বাংলা ছন্দের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণে এবং ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে প্রবোধচন্দ্র সেনের অবদান আলোচনা করো।

বাংলা ছন্দের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণে এবং ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে প্রবোধচন্দ্র সেনের অবদান আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে, বাংলা  ছন্দশাস্ত্রকে বিশৃঙ্খলা, ভ্রান্তি ও প্রথাগত সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুকরণ থেকে মুক্ত করে একটি আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ভিতের ওপর দাঁড় করানোর একক কৃতিত্ব প্রবোধচন্দ্র সেনের (১৮৯৭–১৯৮৬)। প্রবোধচন্দ্র সেনের আত্মপ্রকাশের পূর্বে বাংলা ছন্দের নানাবিধ নামকরণ ও বিভাজন নিয়ে আলংকারিকদের মধ্যে চরম মতভেদ ছিল। তিনিই প্রথম ধ্বনিবিজ্ঞান ও ব্যাকরণের নিরিখে বাংলা ছন্দের রূপ প্রকাশ করেন এবং বাংলা ছন্দের তিন প্রধান রীতির বিজ্ঞানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নামকরণ প্রদান করেন। তাই বাংলা ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে তাঁকে ‘আধুনিক বাংলা ছন্দশাস্ত্রের জনক’ বলা হয়।      • বাংলা ছন্দের ত্রিমুখী বিভাজন ও বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ।প্রবোধচন্দ্র সেনের সবচেয়ে স্মরণীয় অবদান হলো-তিনি বাংলা কবিতার ছন্দকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তাকে ৩টি মূল ধারায় বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি রীতির স্বরুপ প্রকাশ ক...
বাংলা ছন্দের ক্লাসিক্যাল পুনরুজ্জীবন বা ছন্দের কঠোর বন্ধন ও গাম্ভীর্য সৃষ্টিতে মোহিতলাল মজুমদারের অবদান আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবি ও সাহিত্য-সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার(১৮৮৮–১৯৫২) ছিলেন রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম প্রধান ধ্রুপদী বা ক্লাসিক-পন্থী ব্যক্তিত্ব।আসলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেখানে বাংলা ছন্দকে লঘুগতি, তরল মাধুর্য এবং মুক্তি (যেমন: মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ও গদ্যছন্দ) দিয়েছিলেন, ঠিক সেখানেই মোহিতলাল মজুমদার ছন্দের মধ্যে অভিজাত গাম্ভীর্য, কঠোর শৃঙ্খল এবং ক্লাসিক্যাল পুনরুর্জীবন ঘটিয়ে এক স্বতন্ত্র ধারার জন্ম দেন।           বিংশ শতাব্দীর সূচনায় যখন রবীন্দ্র-ছন্দের লঘু মাধুর্য ও ভাবালুতা বাংলা কবিতাকে আচ্ছন্ন করেছিল, ঠিক সেই সময় মোহিতলাল মজুমদার বাংলা ছন্দে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং বঙ্কিমচন্দ্রের ধ্রুপদী (Classical) তেজস্বিতা ও পুরুষাল ভাব ফিরিয়ে আনেন। ছন্দের নিয়মানুবর্তিতা, শব্দচয়নের গাম্ভীর্য এবং সংস্কৃতাশ্রয়ী ভাস্কর্যোপম রূপ...

সত্যন্দ্রনাথ দত্ত।। ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছন্দোচাতুর্য ও মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করো

সত্যন্দ্রনাথ দত্ত।। ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছন্দোচাতুর্য ও মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আমরা জানি যে,বাংলা কাব্যের ইতিহাসে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২–১৯২২) একটি অত্যন্ত প্রসংশনীয় ও স্বতন্ত্র নাম। রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক যুগে কাব্যচর্চা করেও তিনি নিজের এক নিজস্ব ভুবন নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। বাংলা ছন্দের রূপ নির্মাণে, শব্দের সুরঝংকার সৃষ্টিতে এবং নব নব মাত্রিক বিন্যাসে তাঁর দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। এই কারণেই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ‘ছন্দের জাদুকর’ বা ‘ছন্দোরাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। বিশেষত, বাংলা মাত্রাবৃত্ত (কলাবৃত্ত) ছন্দে তিনি যে বৈচিত্র্য, দুলুনি ও রূপদক্ষতা দেখিয়েছেন, তা বাংলা কাব্যসাহিত্যে চিরস্মরণীয়। আর সেখানে।     • সত্যেন্দ্রনাথের ছন্দোচাতুর্য ও শব্দকলা য় দেখি-সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছন্দোচাতুর্যের মূল ভিত্তি ছিল তাঁর অসাধারণ শব্দচয়নএবং ধ্বনিময়তা। যেখানে আছে- শব্দ-সঙ্গীত ও অলংকার। সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, তদ্ভব ও খাঁটি দেশি শব্দের অপূ...

বাংলা ছন্দের মুক্তিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো।

বাংলা ছন্দের মুক্তিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো।( বিশেষ করে তাঁর মুক্তক অক্ষরবৃত্ত বা কলাবৃত্ত ছন্দের অভিনবত্ব নিরূপণ করে ) পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।           বাংলা ছন্দকে মধ্যযুগীয় পয়ারের সংকীর্ণ ও কৃত্রিম নিয়ম থেকে মুক্ত করে আধুনিক কাব্যভাব প্রকাশের উপযোগী ও গতিশীল করে তোলার প্রধান কৃতিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। ছন্দের ব্যাকরণকে না ভেঙেও তিনি তার সীমানা প্রসারিত করেছিলেন।আর সেখানে-       • মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ছন্দের অভিনবত্ব । মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দে অক্ষরের প্রথাগত সমতা (১৪ অক্ষর) রেখেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে পুরোপুরি মুক্ত করে প্রবর্তন করেন 'মুক্তক অক্ষরবৃত্ত'ছন্দ।        পর্ব ও চরণের স্বাধীনতাঃএতে সুনির্দিষ্ট ৮+৬ বা ৮+১০ পর্ব-সীমা উঠে যায়। ভাবের প্রবাহ অনুসারে চরণগুলো কোনটি দীর্ঘ, কোনটি অতি ক্ষুদ্র হয়।         অভিনবত্বঃ চরণের দৈর্ঘ্য অসমান হওয়া সত্ত্বেও কাব্যের লয় ও অভ্যন্তরীণ ছন্দস্পন্দন অক্ষুণ্ণ থাকে।যেমন -   "ঝা...

চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর ডি এস ৫ টিক।

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজরের 'কাব্য ও নাটকের রূপভেদ' অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় ৫ নম্বরের জন্য **সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি সম্ভাব্য প্রশ্ন** নিচে দেওয়া হলো: CBCS     CC10 • কাব্যের রূপভেদ থেকে ৩টি প্রশ্ন  1. ** সাহিত্যিক মহাকাব্য বা প্রথাগত মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।**    * *পরীক্ষায় আসার কারণ:* মহাকাব্যের রূপভেদ থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন থাকে। সাহিত্যিক juমহাকাব্যের উদাহরণ হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের *'মেঘনাদবধ কাব্য'*—এর উল্লেখ উল্লেখসহ বৈশিষ্ট্যগুলো রেডি রাখবেন।  2. ** গীতিকাব্যের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে লেখো।**    * *পরীক্ষায় আসার কারণ:* বাংলা কাব্যের অন্যতম প্রধান রূপভেদ গীতিকাব্য। কবি আত্মনিষ্ঠতা, সুরধর্মিতা ও সংক্ষিপ্ততার কথা উল্লেখ করে উত্তর সাজাতে হবে।  3. ** সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার গঠনরীতি (অষ্টক ও ষট্ক) উদাহরণসহ আলোচনা করো।**    * *পরীক্ষায় আসার কারণ:* সনেটের মিলবিন্যাস (ইতালীয় ও শেক্সপীয়রীয়) এবং ভাব পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে ৫ ন...

জীবনানন্দ দাশের কবিতার ছন্দ প্রকৃতি আলোচনা করো।

জীবনানন্দ দাশের কবিতার ছন্দ প্রকৃতি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।      আমরা জানি যে,আধুনিক বাংলা কবিতার রূপকার জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) কেবল ভাবচিত্র বা রূপকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রেই নয়, ছন্দের প্রয়োগ ও উদ্ভাবনেও এক অনন্য বিপ্লব ঘটিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ছন্দের সুসংহত আভিজাত্য ও নিখুঁত জ্যামিতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে তিনি বাংলা ছন্দে এক গভীর নিবিড়তা, নির্জনতা, মন্থর গতি এবং কথ্যরীতির সহজ স্বাচ্ছন্দ্য দান করেন।আসলে জীবনানন্দের ছন্দ-সচেতনতা মূলত তাঁর কাব্যিক নির্জনতাবোধ, ঐতিহাসিক চেতনা ও সুররিয়্যালিস্টিক মানসিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর এই কারণেই জীবনানন্দ দাশের কবিতার ছন্দপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখতে পাই তাহলো-       • অক্ষরবৃত্ত বা যৌগিক ছন্দের আধিপত্য ও মন্থর লয় । আসলে জীবনানন্দ বাংলা ছন্দের তিন ধারাতেই (দলবৃত্ত, কলাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত) কবিতা লিখেছেন; কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাব্যকীর্তিগুলোতে অক্ষরবৃত্ত বা যৌগিক ছন্দের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি।তবে রবীন্দ্র-উত্তর যুগে অক্ষরবৃত্তের ওপর ভর করে তিনি এমন এক ...