অদল বদল" পান্নালাল প্যাটেল। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,দশম শ্রেণি।
আলোচ্য 'অদল বদল'গল্পের মূল দুটি মুখ্য চরিত্র হলো অমৃত ও ইসাব।তারা হোলির দিনের বিকেলে দুজনে নতুন জামা পরে পাড়ার অন্যান্য ছেলেদের সাথে মেতে ওঠে। দুজনের বয়স, স্কুল, এমনকি তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও জীবনযাত্রাও প্রায় একরকম ছিল। পার্থক্য শুধু এই যে, অমৃতের মা ও ভাইয়েরা থাকলেও ইসাবের শুধু বাবা ছিলেন।
* কুস্তি লড়াই ও জামা ছেঁড়া:
খেলাধুলার একপর্যায়ে অন্য ছেলেদের প্ররোচনায় অমৃত ও ইসাবের মধ্যে কুস্তি লড়াই শুরু হয়। লড়াইয়ের সময় ইসাবের সাথে ধস্তাধস্তিতে অমৃতের নতুন জামার পকেট ও কিছুটা অংশ ছিঁড়ে যায়। নতুন জামা নষ্ট হওয়ায় অমৃতের মনে কঠোর শাস্তির ভয় জেঁকে বসে, কারণ ইসাবের বাবা সুদখোর কাছ থেকে টাকা ধার করে অত্যন্ত যত্নে ওই জামাটি বানিয়ে দিয়েছিলেন।
* জামার অদল-বদল:
ভয়ে দিশাহারা হয়ে অমৃত এক অভিনব বুদ্ধি বের করে। সে ইসাবকে রাজি করিয়ে দুজনে তাদের জামা পরিবর্তন বা অদল-বদল করে নেয়, যাতে ইসাবের বাবা দেখলে বুঝতে না পারেন। হোলির দিন হওয়ায় এবং মায়েরা একটু ধমক দিয়ে জামা সুই-সুতো দিয়ে সেলাই করে দেওয়ায় প্রাথমিক ভয় কেটে যায়। কিন্তু অন্য এক ছেলে তাদের এই জামা বদল করা দেখে ফেলায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় এবং পাড়ার ছেলেরা "অদল-বদল" বলে চিৎকার শুরু করে।
* বাবার প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসার জয়:
ছেলেরা ভয় পেয়ে ইসাবের বাবার কাছে গেলে তিনি তাদের ডেকে পাঠান। ইসাবের বাবা (পাঠান) সব ঘটনা শুনে রেগে যাওয়ার পরিবর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। যখন তিনি জানতে পারেন যে ইসাবকে মার থেকে বাঁচাতে অমৃত বলেছিল, "আমার তো মা রয়েছে" (কিন্তু ইসাবের তো কেউ নেই), তখন তিনি অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার ভালোবাসার প্রশংসা করেন।
* উপসংহার:
দুই বন্ধুর এই গভীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কথা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের সবাই তাদের এই বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে অমৃতকে "অদল" এবং ইসাবকে "বদল" নামে ডাকতে শুরু করে।
Comments
Post a Comment