Skip to main content

Posts

সমাজবিদ্যা। সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো।

সমাজবিদ্যা। সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার সমাজবিদ্যা মাইনর।      শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সমাজ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। সমাজবিজ্ঞানে এদের মুদ্রার দুই পিঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।যেখানে একটিকে ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। আর এই আলোচনা নিজেকে আমরা বলতে পারি যে-        •• সমাজঃ সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের একটি জটিল জাল (A web of social relationships)। মেকাইভার ও পেজ-এর মতে, সমাজ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।আবার অন্যদিকে-      •• সংস্কৃতি্ঃ সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালী (Way of life)। বিজ্ঞানী ই. বি. টাইলরের মতে, সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিক রূপ যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য যেকোনো দক্ষতা বা অভ্যাস। ২. সমাজ ও সংস্কৃতির পরিপূরক সম্পর্ক ১. দেহের সাথে প্রাণের সম্পর্ক: সমাজকে যদি মানুষের...

লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ।। জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ আলোচনা করো। তিনি কীভাবে প্রাকৃতিক অধিকারের (Natural Rights) ধারণা দিয়েছেন?

লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ।। জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ আলোচনা করো। তিনি কীভাবে প্রাকৃতিক অধিকারের (Natural Rights) ধারণা দিয়েছেন? পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।         শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ এবং তাঁর প্রাকৃতিক অধিকারের ধারণা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আর সেখানে- জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social Contract Theory) হলো-          জন লক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ' Two Treatises of Government' (১৬৮৯)- এ সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। লক তাঁর যুক্তিগুলোকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত করেছেন। আর সেই ধাপগুলো হলো-      • প্রাকৃতিক রাজ্যঃ থমাস হবসের মতো লক প্রাকৃতিক রাজ্যকে হিংসাত্মক বা সংঘাতময় মনে করেননি। লকের মতে, প্রাকৃতিক রাজ্য ছিল শান্তি, সদ্বিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার স্থান। এখানে মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সমান ছিল। এই রাজ্য পরিচালিত হতো প্রাকৃতিক আইন এবং যুক্তিবোধ দ্বারা।     • প্রাকৃতিক রাজ্যের অসুবিধাঃ শান্...

বর্ষা। প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্ৰহের বর্ষা প্রকৃতি মানবের প্রাণে যে সজীবতা ও আনন্দানুভূতির সঞ্চার করে তা 'বর্ষা' প্রবন্ধে কিভাবে অভিব্যক্ত হয়েছে? আলোচনা করো।

বর্ষা।। প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্ৰহের  বর্ষা প্রকৃতি মানবের প্রাণে যে সজীবতা ও আনন্দানুভূতির সঞ্চার করে তা 'বর্ষা' প্রবন্ধে কিভাবে  অভিব্যক্ত হয়েছে? আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর।           আমরা জানি যে,বাংলা গদ্যরীতির অন্যতম জনক প্রমথ চৌধুরীর ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ গ্রন্থভুক্ত ‘বর্ষা’ প্রবন্ধটি বর্ষার রূপ-সৌন্দর্য, রোমান্টিকতা এবং মানবমনে তার সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের এক অনন্য দলিল। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে প্রকৃতির যে শুষ্কতা তৈরি হয়, বর্ষার আগমনে তা মুহূর্তে ধুয়ে মুছে যায়। প্রমথ চৌধুরী তাঁর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত চিন্তাধারা ও মননশীল রীতির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন কীভাবে বর্ষা প্রকৃতি মানুষের মনে এক নবীন সজীবতা ও অফুরন্ত আনন্দানুভূতির সঞ্চার করে।আর সেখানেই ঘটে-       প্রকৃতির রূপান্তর ও শুষ্কতা মুক্তি।  গ্রীষ্মের দাবদাহে জরাজীর্ণ প্রকৃতি যখন প্রখর তাপে দগ্ধ হতে থাকে, তখন বর্ষার আগমন ঘটে জীবনদায়ী বার্তা নিয়ে। কড়া রোদ, ধুলাবালি ও ধূসরতার অবসান ঘটিয়ে মেঘের ঘনঘটা প্রকৃতিকে নতুন রূপ দান করে...

বৈশেষিক দর্শন।। বৈশেষিক দর্শন অনুসারে সামান্য কী? সামান্যের প্রকারভেদ উপযুক্ত উদাহরণসহ আলোচনা করো।

বৈশেষিক দর্শন।। বৈশেষিক দর্শন অনুসারে সামান্য কী? সামান্যের প্রকারভেদ উপযুক্ত উদাহরণসহ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।       আমরা জানি যে,বৈশেষিক দর্শন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বস্তুবাদী তথা বাস্তববাদী শাখা। মহর্ষি কণাদ এই দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। বৈশেষিক দর্শনে বিশ্বের সমস্ত জ্ঞেয় ও প্রমেয়(‘যা যথার্থ জ্ঞানের বিষয়’ বা ‘যাকে জানা যায়’)বস্তুকে সাতটি ‘পদার্থ’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে-দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় এবং অভাব।আর-       এই সাতটি পদার্থের মধ্যে চতুর্থ পদার্থ হলো ‘সামান্য’। নিম্নে বৈশেষিক দর্শন অনুসারে সামান্যের লক্ষণ, স্বরূপ এবং এর প্রকারভেদ উপযুক্ত উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-      ১. সামান্যের লক্ষণ ও স্বরূপঃ  সাধারণ ভাষায় সামান্য বলতে বোঝায় ‘জাতি’ বা ‘সাধারণ ধর্ম’ । বিশ্বের বহু বস্তুর মধ্যে যে অভিন্ন বা সাধারণ বৈশিষ্ট্যটি বর্তমান থাকে, যার ফলে আমরা বিভিন্ন বস্তুকে একই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলে চিনতে পারি, তাকেই ‘সামান্য’ বলা হয়।যার-   ...

রাজনৈতিক দল।।ভারতের প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও কর্মসূচি আলোচনা করো।

রাজনৈতিক দল।।ভারতের প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও কর্মসূচি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর স্পেশাল পেপার।         ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জাতীয় দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক গঠনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।আর সেই হিসেবে  ভারতের প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির আদর্শ ও মূল কর্মসূচির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-     ১)ভারতীয় জনতা পার্টিঃ ভরতের বর্তমান রাজনীতিতে একক সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটির ভাবাদর্শ ও কর্মসূচি প্রধানত "একাত্ম মানবতাবাদ" এবং "সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ"-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।আর সেই দলের মূল আদর্শ হলো- ' এক জাতি, এক সংস্কৃতি, এক দেশ'। ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে তারা জাতীয় চেতনার কেন্দ্রবিন্দু মনে করে।আসলে-       পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় কর্তৃক প্রস্তাবিত এই তত্ত্ব দলটির আর্থ-সাম...

রাজশক্তি উত্থান।। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মগধ কিভাবে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল? তা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর।

রাজশক্তি উত্থান।।খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মগধ কিভাবে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল? তা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর।       আমরা জানি যে,খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৬টি মহাজনপদের উত্থান ঘটেছিল। এদের মধ্যে শেষপর্যন্ত মগধ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিতে রূপ নেয় এবং অন্যান্য মহাজনপদকে হারিয়ে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে।মগধের এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক-বিভিন্ন অনুকূল কারণের অবদান ছিল।আর সেখানে আমরা দেখি- মগধের শক্তি বৃদ্ধি ও প্রাধান্য বিস্তারের প্রধান কারণগুলো হলো-       ১)দক্ষ রাজবংশ ও শক্তিশালী শাসক বৃন্দের ভূমিকাঃ মগধের প্রাধান্য বিস্তারের প্রধান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এর যোগ্য শাসকবর্গ। আর সেই শাসকবর্গের মধ্যে অন্যতম শাসকবংশ হলো-         হর্যাঙ্ক বংশঃ রাজা বিম্বিসার বৈবাহিক সম্পর্ক (কৌশল, বৈশালী ও মদ্র রাজপরিবারের সাথে) এবং সামরিক অভিযানের (অঙ্গরাজ্য জয়) মাধ্যমে মগধকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর...

চর্যপদ।। বাংলা গীতি কবিতার আদি রূপ হিসেবে চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য আলোচনা করো।

চর্যপদ।। বাংলা গীতি কবিতার আদি রূপ হিসেবে চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজল ও মাইনর।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যধারায় গীতিকবিতার ইতিহাস হাজার বছরের প্রাচীন, আর তার আদিমতম ও সার্থক নিদর্শন হলো চর্যাপদ। বাহ্যিকভাবে চর্যাপদ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের গূঢ় সাধনসঙ্গীত বা ধর্মীয় পদাবলী হলেও, এর অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে নিখাদ কাব্যরস, গভীর অনুভূতি এবং সমাজচিত্র। আর সেই ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই-    •গীতিকবিতার বৈশিষ্ট্য ও চর্যাপদ। আসলে গীতিকবিতা (Lyric) বলতে বোঝায় কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভাবোচ্ছ্বাস ও আবেশের সুরময় প্রকাশ। চর্যাপদের পদগুলিতে এই গীতিকবিতোচিত গুণাবলী পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। যেখানে আছে-      ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভাবাবেগ। সিদ্ধাচার্যরা শুধু শুষ্ক ধর্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেননি; তাঁদের পদের ছত্রে ছত্রে রয়েছে আনন্দ, বেদনা, শূন্যতা ও মহাসুখের অনুভূতির ব্যক্তিগত প্রকাশ।এছাড়াও আছে-       সঙ্গীতময়তা ও তাল-রাগ। চর্যাপদের প্রতিটি পদের মাথায় নির্দিষ্ট রাগ-রাগি...