Skip to main content

Posts

Showing posts from September, 2025

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 'আমরা' কবিতার মধ্যে দিয়ে বাঙালির কৃতিত্বকে কীভাবে তুলে ধরেছেন তা আলোচনা করো।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 'আমরা' কবিতার মধ্যে দিয়ে বাঙালির কৃতিত্বকে কীভাবে তুলে ধরেছেন তা আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, বাংলা-নবম শ্রেণী)          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,' আমরা' কবিতাটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ' কুহু ও কেকা' কাব্যগ্ৰন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আর সেখানে‘আমরা' কবিতাটি বাংলা ও বাঙালির গৌরব ও কৃতিত্বকে কেন্দ্র করে রচিত। যেখানে-       কবিতার শুরুতে বাংলার রূপ বর্ণনার পরেই কবি বাঙালির গৌরবগাথা রচনা করেছেন। জলে-জঙ্গলে পূর্ণ বাংলায় বাঙালি জাতি সাপ ও বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে।আর সেখানে সিংহলি পুরাণ অনুসারে রাঢ় বাংলার সিংহপুরের রাজপুত্র বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কা জয় করেন এবং তাঁর নামানুসারেই লঙ্কার সিংহল নামকরণ করা হয়।তবে-        বাঙালি বহির্দেশীয় আক্রমণকারী মগ ও মোগলের সঙ্গেও প্রাণপণ লড়াই করেছে। বারোভূঁইয়ার অন্যতম চাঁদ রায়, প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত করতে দিল্লির মোগল সম্রাটকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল।এই বাংলায় গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম আছে।তাই কবি ধরে নিয়েছেন তাঁর সুপ্রাচীন সাংখ্য দর্শনের রচনাভূম...

প্রথম সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ২০২৫ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ।

  West Bengal State University           Supplimentary Examination                                              1st Semester CBCS                                                         Suggestion 2025 প্রতিটি ইউনিট থেকে একটি করে মোট চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ৪×১০=৪০                  ইউনিট-১ ১। *** ক) বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থের প্রকৃত নাম কী?এই গ্রন্থটি কে,কোথা থেকে,কবে আবিষ্কার করেন? গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্য বিচার করো। • *** চর্যাপদে গূঢ় ধর্মীয় সাধনতত্ত্বের (ধর্মসঙ্গীত)প্রকাশ ঘটলেও তারই মধ্যে গানগুলিতে তৎকালীন সমাজ জীবন যেভাবে পরিলক্ষিত হয় তার পরিচয় দাও।                         ...

বাংলা মেজর প্রশ্নপত্র

বাংলা মেজর প্রথম সেমিস্টার বিভিন্ন সালের প্রশ্ন (CBCS, NEP)                           একক-১ ১।ক) বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থের প্রকৃত নাম কী? এই গ্রন্থটি কে, কোথা থেকে, কবে আবিষ্কার করেন? গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্য বিচার করো।২২ • চর্যাপদে গূঢ় ধর্মীয় সাধনতত্ত্বের প্রকাশ ঘটলেও তারই মধ্যে গানগুলিতে তৎকালীন সমাজ জীবন যেভাবে পরিলক্ষিত হয় তার পরিচয় দাও।২১ • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কী?কে এই গ্রন্থটি কোথা থেকে আবিষ্কার করেন? গ্রন্থটির সাহিত্যিক মূল্য বিচার করো। ২০ • 'চর্যাগীতি ধর্মসঙ্গীত হলেও সমাজ বিবিক্ত নয়- এই গানগুলোর মধ্যে পাই তৎকালীন সমাজ।' মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।১৯ •বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থের প্রকৃত নাম কী? কে এই গ্রন্থটি কোথা থেকে আবিষ্কার করেন? এই গ্রন্থটির সাহিত্যিক মূল্য বিচার করো।১৮ খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে লেখো। কাব্যটির কাব্যমূল্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।২২ • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কয়টি খন্ড ও কী কী ?এই কাব্যের কাহিনী ও আঙ্গিক আলোচনা করো।২১ • শ্রীকৃষ্ণকী...

উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান আলোচনা করো।

উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, বাংলা মেজর এবং পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মাইনর)।             আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৯শ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন সময়ে বাংলা গদ্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তবে সেই সময়ে বাংলা গদ্যের একটি নিজস্ব রূপ তখনও ছিল না।আর সেই প্রেক্ষিতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্ৰহণ করে বাংলা গদ্যকে একটি আধুনিক ও প্রাঞ্জল রূপদান করে। তবে-         ১৭৯৯ সালে শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাইবেল ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু হয়। এর প্রায় এক বছর পর অর্থাৎ ১৮০০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।যে কলেজটি মূলত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের বাংলা ও অন্যান্য দেশীয় ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যেই এটি স্থাপিত হয়েছিল।আর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযু...

বাংলা গদ্যের বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনের অবদান আলোচনা করো ।

বাংলা গদ্যের বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।              আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা গদ্যের বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনের অবদান ছিল অপরিসীম। ১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরি, উইলিয়াম ওয়ার্ড এবং মার্শম্যান এই তিনজনের উদ্যোগে শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন স্থাপিত হয়। আর এই মিশন বাংলা ভাষার প্রসারে, বিশেষ করে বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আর সেই প্রেক্ষিতে বাংলা গদ্যের বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনের ভূমিকায় আমরা দেখতে পাই যে -             আমরা জানি যে,শ্রীরামপুর মিশন মূলত ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই মিশন সেই কার্যক্রমের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে তাদের কার্যক্রম বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আর সেই প্রভাবে বাংলা গদ্যের বিকাশে তাদের প্রধান অবদান আমরা নিম্নসূত্রাকারে আলোচনা করলাম- ১)মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহারঃ  শ্রীরামপুর মিশনই প্রথম এই বাংলার বুকে বাংলা মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করে। তবে এর আগে বাংলা গদ্যের...

বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব বা অবদান আলোচনা করো ।

বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব বা অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।           • আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যকে সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাঁরা অগ্ৰণী ভূমিকা গ্ৰহণ করেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার মধ্যে অন্যতম। শুধু তাই নয়, উপন্যাস সাহিত্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।আসলে তিনি রবীন্দ্রনাথের উত্তরসূরি হয়েও নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখতে পেরেছিলেন এবং সমাজের নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁর উপন্যাসে গুলিতে। তবে এখানে বলে রাখি-সমাজের প্রচলিত প্রথা, কুসংস্কার এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতাকে তিনি তাঁর সাহিত্যে নতুনভাবে উপস্থাপন করে অনন্যসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।আর সেখানে -          •সাধারণ মানুষের জীবনচিত্রণে  শরৎচন্দ্র তাঁর উপন্যাস গুলিতে তৎকালীন বাংলার বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। শুধুমাত্র তাই নয়,তিনি সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন, তাদের দুঃখ-দুর্দশা, প্রেম ও সম্পর্কের ...

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়কে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কেন আলোচনা করো

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়কে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কেন আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর)          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়কে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। কারণ তিনি বাংলা সাহিত্যে গদ্যকে একটি সুসংহত ও শক্তিশালী রূপ দিয়েছিলেন।বলা যায় তাঁর আমলের পূর্বে বাংলা গদ্যের এরূপ অবস্থা ছিল না।আগে বাংলা গদ্য ছিল অপরিপক্ক এবং বেশিরভাগই দলিল, চিঠিপত্র, বা পুঁথির ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিদ্যাসাগর এই দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠে গদ্যকে সাহিত্যের উপযুক্ত করে তোলেন। আর সেখানে আমরা দেখি যে- বিদ্যাসাগরের গদ্যে যতিচিহ্নের ব্যবহারঃ তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বাংলা গদ্যে সঠিকভাবে দাঁড়ি (।), কমা (,), সেমিকোলন (;) ইত্যাদি যতিচিহ্ন ব্যবহার করে বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করেন। এর ফলে গদ্য পাঠ করা সহজ হয় এবং বাক্যগুলো সুশৃঙ্খল দেখায়।   বিদ্যাসাগরের গদ্যের ভাষা সরল ও সাবলীলঃ বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ ব্যবহার করলেও, তার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাবলীলতা। তিনি বাক্যগুলোকে জটিলতার বদলে সরল ও সহজে ব...

কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতার মধ্যে দিয়ে কবির কোন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে- আলোচনা করো।

কারার ওই লৌহ-কপাট/ ভেঙে ফেল, কররে লোপাট!'-কাজী কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতার মধ্যে দিয়ে কবির কোন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, বাংলা-নবম শ্রেণী)         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতায় কবির বিদ্রোহী ও বিপ্লবাত্মক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। এই কবিতায় কবি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার এবং নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে এটি কেবলমাত্র একটি গান নয়, এটি একটি শক্তির উৎস।যে সত্য, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।আর সেই সত্যে কবির-           ইচ্ছার প্রতিফলনঃ নজরুলের 'ভাঙার গান' কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি যেন এক একটি বিস্ফোরক শব্দ সমন্বয়ে রচিত।যার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছেন।যে বিদ্রোহে কবির প্রধান কিছু ইচ্ছার প্রতিফলন আমরা ভাঙার গান কবিতায় দেখতে পাই-          • বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আহ্বানঃ ভাঙার গান কবিতায় কবি পরাধীনতার বিরুদ্ধে ...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ও ফলাফল আলোচনা করো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব বা ফলাফল আলোচনা করো            •′আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (1939-1945) ফলাফল ছিল ব্যাপক সুদূরপ্রসারী।আর যুদ্ধের ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে।শুধু তাই নয়,এই যুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের এক  ভয়াবহ সংঘাত।যে সংঘাতে আনুমানিক প্রায় ৭-৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।আর সেই যুদ্ধের-                    • রাজনৈতিক ফলাফল• ১) জাতিসংঘের সৃষ্টিঃ বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।আর এটি লীগ অফ নেশন এর ব্যর্থতাকে প্রতিস্থাপন করে। ২)স্নায়ুযুদ্ধ এবং দ্বিমেরু বিশ্বঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোটাবিশ্ব দুটি প্রধান শক্তি জোটে বিভক্ত হয়।যার একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) এবং তার পুঁজিবাদী মিত্ররা, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) এবং তার সমাজতান্ত্রিক মিত্ররা।এই শক্তিজোঠ সৃষ্টি হলে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War ...

কাজী নজরুল ইসলামের ভাঙার গান কবিতার প্রেক্ষাপট ও কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করে দেখাও।

কাজী নজরুল ইসলামের ভাঙার গান কবিতার প্রেক্ষাপট ও কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করে দেখাও।          আমরা জানি যে,কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতাটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক জোরালো আহ্বান। আসলে এই কবিতার বিষয়বস্তু হলো বিদ্রোহ, মুক্তি এবং নতুন সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়।আর সেই অভিপ্রায় থেকেই ভাঙার গান কবিতার অবতারণা। যেখানে আছে-  ১)বিদ্রোহের আহ্বান ও সুরঃ ভাঙার গান কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু হলো বিদ্রোহ। কবি এই কবিতায় পুরোনো, জীর্ণ এবং পরাধীনতার প্রতীক সবকিছু ভেঙে ফেলার কথা বলেছেন।আসলে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অধীনতা থেকে মুক্তির জন্য তরুণ সমাজকে বিপ্লবের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।তাই তিনি আমাদের শোনান-                           " ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়"                   আসলে এই পংক্তিটির মধ্যে দিয়ে কবি বিদ্রোহের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেছেন।আর সেখানে আছে- ২)পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার ...

স্তবকের শ্রেণী ও তার গঠনের পরিচয় দাও।

স্তবকের শ্রেণী ও তার গঠনের পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,স্তবক বা শ্লোক হলো কাব্য বা কবিতার একটি একক বা একটি নির্দিষ্ট অংশের নাম।যেটি কয়েকটি লাইন নিয়ে গঠিত একটি ছোট কবিতা বা কবিতার অংশ।যে অংশটি সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রকাশ করে। তবে-                                                                   প্রতিটি স্তবকের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ এবং গঠন থাকে। এটি কবিতার মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি করে এবং বিষয়বস্তুকে ভিন্ন ভিন্ন অংশে ভাগ করতে সাহায্য করে।আর সেখানে-                     • স্তবকের প্রকারভেদ• স্তবককে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।আর সেই ভাগ গুলি হল-  ১)স্বরবৃত্ত স্তবকঃ  এই ধরনের স্তবকে স্বরধ্বনি বা অক্ষর সংখ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়। সাধা...

উদাহরণসহ ধ্বনির শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করো।

উদাহরণসহ ধ্বনির শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।              আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ধ্বনি মূলত দুই প্রকার- স্বরধ্বনি এবং ব্যঞ্জনধ্বনি ।আর এই দুটি প্রধান প্রকারভেদকে যেভাবে ভাগ করা হয় তাহলো- ১)স্বরধ্বনিঃ স্বরধ্বনি হলো সেইসব ধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোথাও কোনো বাধা পায় না। ফুসফুস থেকে বাতাস সরাসরি বেরিয়ে আসে।আর বাংলায় এই স্বরধ্বনির সংখ্যা হলো মোট ১১টি। আবার যার মধ্যে মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।                 • স্বরধ্বনির শ্রেণীবিভাগ• বাংলায় স্বরধ্বনিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।আর সেই ভাগ গুলি হল-  ১)হ্রস্বস্বরঃ হ্রস্বস্বর হলো সেই স্বরধ্বনি,যে ধ্বনিগুলি উচ্চারণে কম সময় লাগে। যেমন : অ, ই, উ, ঋ। ২) দীর্ঘস্বরঃ দীর্ঘস্বর হলো সেই স্বরধ্বনি,যে ধ্বনিগুলিকে উচ্চারণে বেশি সময় লাগে। যেমন : আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ। ৩) যৌগিক স্বরঃ যখন দুটি স্বরধ্বনি একসাথে মিলিত হয়ে একটিমাত্র স্বর তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক স্বর বলে। যেমন: ঐ ...

ধ্বনি ও বর্ণ কী? ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার

ধ্বনি ও বর্ণ কী? ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)। ধ্বনিঃ ধ্বনি হলো মুখগহ্বর, কণ্ঠ্যযন্ত্র ও বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে উচ্চারিত মৌলিক শ্রুতিস্বর। এটি কানে শোনা যায়, কিন্তু চোখে দেখা যায় না। ধ্বনিই ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, যার সাহায্যে শব্দ গঠিত হয়।           বর্ণঃ বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক। আর যে চিহ্নের মাধ্যমে আমরা কোনো ধ্বনিকে চোখে দেখতে পাই এবং লিখতে পারি, তাকে বর্ণ বলা হয়।            • ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য• 1. ধ্বনি হলো উচ্চারণের মাধ্যমে সৃষ্ট মৌলিক শ্রুতিস্বর। কিন্তু-        •বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক। 2. এটি কানে শোনা যায়, চোখে দেখা যায় না। কিন্তু-          •এটি চোখে দেখা যায়, কানে শোনা যায় না। 3. ধ্বনি উচ্চারণজনিত বাস্তব সত্য। কিন্তু-            •বর্ণ হলো লেখনরীতি-নির্ভর প্রতীকী রূপ। 4. একেকটি ধ্বনির সাথে অর্থের পার্থক্য ঘটতে পারে (যেমন – কল ও বল)।       ...

মাত্রা কাকে বলে? মাত্রার প্রকারভেদ আলোচনা করো।

মাত্রা কাকে বলে? মাত্রার প্রকারভেদ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)। মাত্রা কীঃ বাংলা লিপিতে কোনো কোনো অক্ষরের ওপর যে সোজা রেখা টানা থাকে, তাকে মাত্রা বলে। এই মাত্রা বাংলা বর্ণমালার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি বর্ণের মাথার ওপর একটি কাল্পনিক ছাদ বা রেখার মতো এটি দেখা যায়। বর্ণের এই মাত্রা ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ণমালাকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।                         মাত্রার প্রকারভেদ •মাত্রার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ণমালাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়- ১)পূর্ণ মাত্রার বর্ণঃ যেসব বর্ণের উপরে সম্পূর্ণ রেখা বা মাত্রা থাকে, তাদেরকে পূর্ণ মাত্রার বর্ণ বলা হয়। বাংলা বর্ণমালায় এই ধরনের বর্ণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্বরবর্ণের মধ্যে ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে ২৬টি বর্ণ পূর্ণ মাত্রার। উদাহরণ-  • স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।                                 •ব্যঞ্জনবর্ণ: ক, খ, গ, ...

যতি বা ছেদ চিহ্ন কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

যতি বা ছেদ চিহ্ন কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।             •  যতিঃ যতি বা ছেদ চিহ্ন হলো এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন যা বাক্যের অর্থকে সুস্পষ্ট করতে এবং বাক্যকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে ব্যবহার করা হয়।আসলে এটি লেখার সময় বাক্যের মধ্যে কোথায় থামতে হবে, কোথায় শ্বাস নিতে হবে, বা কখন কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন করতে হবে তা নির্দেশ করে।যার মাধ্যমে বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হয় এবং পাঠকের পক্ষে তা বোঝা সহজ হয়।           • যতি চিহ্ন ব্যবহারের উদ্দেশ্য • ১)  বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করা। ২)বাক্যকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করা। ৩) লেখার গতি এবং ছন্দ বজায় রাখা।  ৪) একই ধরনের শব্দ বা বাক্যকে আলাদা করা। উদাহরণস্বরূপ , "এখানে থেমো না, যাও" এবং "এখানে থেমো, না যাও" এই দুটি বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা কেবল যতি চিহ্নের ব্যবহারের মাধ্যমেই বোঝা যায়।                • যতি চিহ্নের শ্রেণীবিভাগ • বাংলা ভাষায় সাধারণত ব্যবহৃত কিছু প্রধান যতি চিহ্নের প্রকারভেদ নিচ...

বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামূলক অভীক্ষার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ আলোচনা করো

বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামূলক অভীক্ষার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, শিক্ষামূলক অভীক্ষার দ্বারা বিশেষভাবে শিক্ষার্থীর কোন শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্যের পরিমাপ করা হয়ে থাকে। আর এই শিক্ষামূলক অভীক্ষাকে ৩ শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। আর সেই ভাগ গুলি হল-            ১) মৌখিক অভীক্ষাঃ কোনো বিশেষ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লব্ধজ্ঞানের সুস্পষ্ট ও সঠিক বিচারের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নকরনের মাধ্যমে যে অভীক্ষা নেওয়া হয় তাকে মৌখিক অভীক্ষা বলা হয় ।        ২) লিখিত অভীক্ষাঃ কোন বিশেষ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লব্ধজ্ঞানকে সঠিকভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে লিখিত আকারে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে যে অভিক্ষা নেওয়া হয় তাকে লিখিত অভীক্ষা বলা হয়। লিখিত অভিক্ষা আবার দুই প্রকার আর সেই প্রকার গুলি হল-      ক) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষাঃ কোন অভীক্ষায় শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করে বা কতগুলো নির্দিষ্ট ধারণা থেকে সঠিক উত্তরট...

সম্যক চুক্তি/চ্যুতি/পার্থক্য/আদর্শ এর পাঁচটি সুবিধা লেখো।

  সম্যক চুক্তি/চ্যুতি/পার্থক্য/আদর্শ এর পাঁচটি সুবিধা লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)। ১) সম্যক পার্থক্য হল যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে বিস্তৃতির শ্রেষ্ঠ পরিমাপ। আসলে এটি বীজগণিতের সূত্রাবলী প্রয়োগের ক্ষেত্রেও এটা উপযুক্ত। এটি নমুনা বিচ্যুতির দ্বারা সব থেকে কম পরিমাণে প্রভাবিত হয় বিস্তৃতির অন্য যেকোনো পরম পরিমাপের তুলনায়।  ২) সম্যক পার্থক্যের একটি পূর্ণ সংজ্ঞ পাওয়া যায় যেটি গাণিতিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।  ৩) দুই বা ততোধিক সংখ্যা শ্রেণীর সম্যক পার্থক্যের মিলিত সমুক পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিস্তৃতির অন্য কোন পরিমাপকের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।  ৪) দুই বা ততোধিক সংখ্যা শ্রেণির পর্যবেক্ষণগুলির ভেদ তুলনা করতে ভেদাঙ্ক সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পরিমাপক হিসেবে ব্যবহৃত হয় আর এই ভেদাঙ্ক নির্ভর করে সম্যক পার্থক্যের উপর। ৫) সম্যক পার্থক্যের ব্যবহার খুব বেশি হয় রাশি বিজ্ঞানের আরো বিস্তৃত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে। ...............................................................................

কেন্দ্রীয় প্রবণতার ব্যবহারগুলি আলোচনা করো।

কেন্দ্রীয় প্রবণতার ব্যবহারগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।           আমরা জানি যে,কেন্দ্রীয় প্রবণতা হলো পরিসংখ্যানের একটি মৌলিক ধারণা। যা ধারণা কোনো ডেটাসেটের কেন্দ্রবিন্দু বা গড় মানকে নির্দেশ করে।আসলে এটি ডেটাসেটের সামগ্রিক চিত্র বুঝতে সাহায্য করে এবং একটি মাত্র সংখ্যা দিয়ে পুরো ডেটাকে উপস্থাপন করে। আর সেখানে কেন্দ্রীয় প্রবণতার প্রধান ব্যবহারগুলো হলো-         •ডেটার সংক্ষিপ্তকরণঃ কেন্দ্রীয় প্রবণতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো ডেটাকে সংক্ষিপ্ত ও সহজে বোধগম্য করা। প্রচুর পরিমাণে ডেটা থাকলে সেগুলোকে একটিমাত্র সংখ্যা (যেমন: গড় বা মধ্যমা) দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যা ডেটার মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের গড় নম্বর দিয়ে তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বোঝা যায়।        •ডেটাসেটের মধ্যে তুলনাঃ বিভিন্ন ডেটাসেটের মধ্যে তুলনা করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রবণতা ব্যবহার করা হয়। যেমন, দুটি ভিন্ন কোম্পানির কর্মীদের গড় বেতন তুলনা করে দেখা যায় কোন ...

মূল্যায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

মূল্যায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।          আমরা জানি যে,মূল্যায়ন হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, বা কর্মসূচির গুণাগুণ, মান, কার্যকারিতা, বা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আসলে এটি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনে কতটা সফল হওয়া গেছে, তা পরিমাপ করার একটি পদ্ধতি। আর সেখানে-                 মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য ১. সিদ্ধান্ত গ্রহণ : মূল্যায়ন ফলাফল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অপরিহার্য। যেমন, কোনো শিক্ষকের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তার পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নির্ধারণ করা যায়। ২ . উন্নয়ন: মূল্যায়ন দুর্বলতা এবং ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতে উন্নতি করার সুযোগ দেয়। যেমন, একটি কোম্পানির কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে তার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা সম্ভব। ৩. দায়বদ্ধতা: মূল্যায়ন একটি নির্দিষ্ট কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করে। এটি নিশ্চিত করে যে কর্মীরা তাদের দা...

শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক মূলক অভীক্ষার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক মূলক অভীক্ষার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।           আমরা জানি যে,শিক্ষামূলক (educational) ও মনোবৈজ্ঞানিক (psychological) অভীক্ষা হলো কোনো ব্যক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, জ্ঞান বা ক্ষমতা পরিমাপ করার কৌশল। যদিও উভয় অভীক্ষাই পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়- তাদের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, প্রয়োগ এবং ফলাফল ব্যাখ্যায় বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আর সেখানে-                       • উদ্দেশ্যগত পার্থক্য•             • শিক্ষামূলক অভীক্ষাঃ শিক্ষামূলক অভীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি, জ্ঞান এবং কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের অর্জিত দক্ষতা পরিমাপ করা। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা ও সবলতা চিহ্নিত করে শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নত করা যায়। উদাহরণ-  বার্ষিক পরীক্ষা, কুইজ, ভর্তি পরীক্ষা। কিন্তু -          • মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষাঃ মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষার মূল ...

প্রশ্নগুচ্ছের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি আলোচনা করো

প্রশ্নগুচ্ছের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।                 আমরা জানি যে, প্রশ্নগুচ্ছ বা Questionnaire হলো একগুচ্ছ সুসংগঠিত প্রশ্ন, যা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তৈরি করা হয়।যেটি গবেষণার কাজে, বাজার সমীক্ষায়, বা যেকোনো ধরনের মতামত জানতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।আর সেই প্রশ্নগুচ্ছের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-                        • সুস্পষ্টতা ও সরলতা•         • সহজবোধ্য ভাষাঃ প্রশ্নগুচ্ছের প্রশ্নগুলো এমন সহজ ভাষায় লেখা উচিত যেন উত্তরদাতা সহজেই তা বুঝতে পারে। কোনো ধরনের জটিল শব্দ বা কারিগরি পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না উত্তরদাতা সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন।       •একক প্রশ্নঃ  প্রতিটি প্রশ্নে একটি মাত্র বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা উচিত। যেমন, "আপনি কি এই পণ্যটির গুণগত মান ও দাম পছন্দ করেন?"এই ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে দুটি আলাদা বি...

সর্বাত্মক পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো

সর্বাত্মক পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সর্বাত্মক পরিচয় পত্র, যা প্রায়শই ইউনিভার্সাল আইডি বা ইউনিভার্সাল আইডেন্টিটি কার্ড নামে পরিচিত।আর এটি হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য একটি একক পরিচয় পত্রের মধ্যে একত্রিত করা হয়।যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি পরিষেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করা।আর সেই পরিচয় পত্রের সুবিধা ও অসুবিধা  হলো-                   • সুবিধা (Advantages)• ১)সহজ পরিষেবা প্রাপ্তিঃ এই ধরনের পরিচয় পত্র থাকলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, যেমন রেশন, ভর্তুকি, পেনশন, এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজেই পাওয়া যায়। আলাদা আলাদা কার্ড বা নথি দেখানোর প্রয়োজন হয় না।  ২ ) নকল প্রতিরোধঃ একটি সমন্বিত ডেটাবেস থাকার কারণে নকল পরিচয় পত্র তৈরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আর্থিক জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ কমে। ৩) সময় সাশ্রয়: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বা...

ব্যক্তিগত ডায়েরী কিভাবে বহুজনের আস্বাদ্য হয়ে ওঠে?একটি সাহিত্য-পদবাচ্য ডায়েরির বিষয় ও রীতির বিশ্লেষণ করো।

ব্যক্তিগত ডায়েরী কিভাবে বহুজনের আস্বাদ্য হয়ে ওঠে?একটি সাহিত্য-পদবাচ্য ডায়েরির বিষয় ও রীতির বিশ্লেষণ করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ব্যক্তিগত ডায়েরি কীভাবে বহুজনের আস্বাদ্য হয়ে ওঠে, তা বুঝতে হলে প্রথমে ডায়েরির মূল উদ্দেশ্যটি বোঝা দরকার। আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা বলতে পারি-ডায়েরি হলো একান্ত ব্যক্তিগত কিছু চিন্তা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের লিখিত রূপ।যেটি সাধারণত লেখক নিজের জন্য লেখেন, যেখানে কোনো প্রকাশনার চাপ বা পাঠকের প্রত্যাশা থাকে না। কিন্তু-                                                                              কিছু ডায়েরি এমন এক সাহিত্যিক গুণ অর্জন করে, যা তাদের শুধু ব্যক্তিগত নথি থেকে তুলে ধরে এক বৃহত্তর পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। আর ঠিক তখনই বহুজনের আশ্বা...

মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করে একটি সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের আলোচনা করো।

মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করে একটি সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হলো সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা, যে ধারায় গল্পের মূল উপজীব্য হয়ে ওঠে চরিত্রের মনোজগৎ ও তার ভেতরকার দ্বন্দ্ব।তবে সাধারণ উপন্যাসের মতো এতে প্লট, চরিত্র, স্থান, কাল ইত্যাদি থাকলেও, মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে কাহিনীর চেয়ে চরিত্রের ভেতরের ভাবনা, অনুভূতি, স্মৃতি, স্বপ্ন, এবং মানসিক সংঘাতের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। আর  এই প্রেক্ষিতে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-         • অন্তর্মুখী বিশ্লেষণঃ  মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে লেখকের মূল লক্ষ্য থাকে চরিত্রের মনের গভীরে প্রবেশ করা। বাইরের ঘটনার বর্ণনা কম থাকে, বরং চরিত্রটি কীভাবে কোনো ঘটনাকে অনুভব করছে, তার প্রতিক্রিয়া কী, তার মনোজগতে কী পরিবর্তন আসছে – এসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়।       চেতনা প্রবাহঃ  অনেক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে চেতনা প্রবাহ রীতি ...

জগতের উপর মনের কারখানা বসিয়াছে এবং মনের উপরে বিশ্বমনের কারখানা। সেই উপরি তল হইতে সাহিত্যের উৎপত্তি।"—এই উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন প্রবন্ধের? সেই প্রবন্ধের আলোকে উক্ত বিষয়টির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

" জগতের উপর মনের কারখানা বসিয়াছে এবং মনের উপরে বিশ্বমনের কারখানা। সেই উপরি তল হইতে সাহিত্যের উৎপত্তি।"—এই উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন প্রবন্ধের? সেই প্রবন্ধের আলোকে উক্ত বিষয়টির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।           উপরোক্ত আলোচ্য উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ' সৌন্দর্যবোধ ' প্রবন্ধ থেকে এই উক্তিটি নেওয়া হয়েছে। সেই প্রবন্ধের আলোকে আমরা দেখি যে-          ' সৌন্দর্যবোধ' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখিয়েছেন যে, সাহিত্য বা শিল্পের সৃষ্টি কোনো তথ্য বা জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে হয় না। বরং বলা যেতে পারে যে,এটি আমাদের গভীর অনুভূতি ও উপলব্ধির প্রকাশ।আসলে তিনি এই বিষয়টি বোঝাতে ' কারখানা' র একটি রূপক ব্যবহার করেছেন।আর সেখানে-              উক্তিটির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের মূল উৎস ও প্রকৃতির একটি গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।আসলে তিনি মনে করেন, সাহিত্য বা শিল্পের সৃষ্টি কেবল বস্তুগত জগত থেকে হয় না, বরং এর পেছনে রয়েছে এক জটিল মানসিক ও ...

সাহিত্যের প্রধান অবলম্বন জ্ঞানের বিষয় নহে,ভাবের বিষয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সামগ্রী প্রবন্ধ অবলম্বনে বিষয়টি বিশ্লেষণ করো।

সাহিত্যের প্রধান অবলম্বন জ্ঞানের বিষয় নহে,ভাবের বিষয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সামগ্রী প্রবন্ধ অবলম্বনে বিষয়টি বিশ্লেষণ করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।               আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে," সাহিত্যের প্রধান অবলম্বন জ্ঞানের বিষয় নয়, ভাবের বিষয়।" এই উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সামগ্রী প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়- রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম প্রধানত মানুষের আবেগ, অনুভূতি এবং হৃদয়ের গভীর উপলব্ধি নিয়ে রচিত। জ্ঞান যেখানে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও যুক্তির উপর নির্ভরশীল, সেখানে সাহিত্য জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে যা মূলত ভাবের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।আর সেখানে আমরা দেখি-          জ্ঞান ও ভাবের পার্থক্যঃ জ্ঞান হলো সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য তথ্য, যেমন বিজ্ঞানের সূত্র বা ইতিহাসের ঘটনাবলী। এটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করে এবং যুক্তি দিয়ে কোনো বিষয়কে বুঝতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ভাব হলো আমাদের হৃদয়ের অভিজ্ঞতা, আনন্দ, বেদনা, প্রেম, এবং সৌন্দর্যের অনুভূতি। এট...