Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2025

পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর প্রশ্নপত্র ২০২৩।

পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর প্রশ্নপত্র ২০২৩।                                     একক-১ ১ক)  প্রবন্ধকার হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্যতা কোথায় তা আলোচনা করো।  অথবা  খ) বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে ভারতী সাধনা ও প্রবাসী পত্রিকা তিনটির গুরুত্ব নির্ণয় করো।                            একক-২ গ) ঐতিহাসিক নাটক রচনায় দ্বিজেন্দ্রলাল লাল রায়ের সাফল্যের দিকগুলি নির্দেশ করো। অথবা  ঘ) উৎপল দত্তের নাট্য প্রয়াসের বিশিষ্টতার পরিচয় দাও।                           একক-৩ ঙ) নতুন কালের পটভূমিকায় বাঙালির জীবন ও সৃষ্টিতে মধুসূদন দত্তের কবি কৃতির অভিনবত্বের দিকগুলি নির্দেশ করো। অথবা  চ) আধুনিক বাংলা কবিতায় নিখিল নাস্তির কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের বিশেষত্ব কোথায় তা তাঁর কাব্য গুলি বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দাও। ...

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্গত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি আলোচনা করো।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্গত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'বিড়াল' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত রম্যরচনা সংকলন 'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫) গ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ।আর সেই প্রবন্ধে আফিং-খোর ব্রাহ্মণ কমলাকান্তে র জবানিতে অত্যন্ত হালকা ও কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে বিড়াল প্রবন্ধটি রচিত হলেও এর গভীরে রয়েছে তীক্ষ্ণ সমাজ-সমালোচনা এবং দর্শনমূলক বক্তব্য।আর সেই বক্তব্যে আমরা দেখি-         আলোচ্য ' বিড়াল'প্রবন্ধে কমলাকান্তের সঙ্গে একটি বিড়ালের কথোপকথন (আসলে কমলাকান্তের আফিংজনিত কল্পনা) বর্ণিত হয়েছে।যখন কমলাকান্ত গভীর রাতে দুধ পান করার পর আফিং সেবনে বিভোর, আর তখন একটি বিড়াল এসে তাঁর দুধে মুখ দেয়। কমলাকান্তের হাতে থাকা লাঠির আঘাতে বিড়ালটি চলে না গিয়ে মানুষের মতো যুক্তি ও ভাষায় তাঁর অধিকারের দাবি জানায়। তবে এখানে          'বিড়াল...

১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লিখিত প্রধান সুপারিশগুলো আলোচনা করো।

  ১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি (National Policy on Education - NPE 1986)-তে উল্লিখিত প্রধান সুপারিশগুলো  আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/Calcutta University পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)        আমরা জানি যে,১৯৮৬ সালের এই নীতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন দিশা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল। এই নীতির মূল ভিত্তি ছিল " শিক্ষার সর্বজনীনতা", " শিক্ষায় সমতা" এবং " শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি"। আর এই প্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশ গুলি হল-     ১) শিক্ষার কাঠামো ও জাতীয় সংহতিঃ   দেশজুড়ে শিক্ষার একটি অভিন্ন কাঠামো (Uniform Structure) হিসেবে ১০+২+৩ ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়। এটি ছিল শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। যেখানে  জাতীয় পাঠক্রম, জাতীয় সংহতি, রক্ষার জন্য একটি জাতীয় মূল পাঠক্রম, প্রবর্তনের কথা বলা হয়। এই মূল পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি হলো-    • ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।•সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।• সাধারণ বিজ্ঞান ও গণিত।•সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ...

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে হান্টার কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখো।।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে হান্টার কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর)।            আমরা জানি যে, যে সময়ে( ১৮৮২) প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ভীষণ শ্লথ হয়ে আসছিল ঠিক সেই সময়ে হান্টার কমিশন এই প্রাথমিক শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ এই প্রাথমিক শিক্ষা হলো জনশিক্ষা বিস্তারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। আর হান্টার কমিশন সেদিন এই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে ৩৬ টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন । সেই সুপারিশ গুলির মধ্যে অন্যতম হলো-       ১) প্রাথমিক শিক্ষা হবে জনসাধারণের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা । যেখানে জীবনের পক্ষে যা সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয়, সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে শেখানো হবে। আসলে সেদিন হান্টার কমিশন এই প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষারূপেই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।        ২) জনগণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন , প্রসার ইত্যাদির প্রতি রাজ্যকে বিশেষ নজর দিতে হবে।         ৩) প্রাথমিক শিক্ষার প...

করুণাহত্যা কী? করুণা হত্যার প্রকারভেদ আলোচনা করো।

করুণাহত্যা কী? করুণা হত্যার প্রকারভেদ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন, মাইনর)।    • ইচ্ছামৃত্যু বা করুণাহত্যাঃ  গ্রিক শব্দ 'Euthanasia' (ইউথানেসিয়া) এর অর্থ হল 'Good Death' বা ' শান্তি মৃত্যু'। আর এখানে করুণাহত্যা বা 'Mercy Killing' হলো এর একটি প্রতিশব্দ।আর এই প্রেক্ষিতে-             ইচ্ছা মৃত্যু বা করুণাহত্যা (Euthanasia) বলতে বোঝায়- যখন কোনো ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগেন এবং তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা থাকে না, তখন সেই ব্যক্তিকে তাঁর কষ্ট লাঘবের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে মৃত্যু ঘটাতে সহায়তা করা।         •ইচ্ছামৃত্যু বা করুণাহত্যার প্রকারভেদ•          ইচ্ছা মৃত্যু বা করুণাহত্যাকে মূলত দুটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবিভাগ করা যায়-         ১)প্রয়োগের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এবং                      ২)রোগীর সম্মতির ওপর ভিত্তি করে।  ১) ইচ্ছামৃত্য...

বাংলার চিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো।

বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো ( বাঙালির চিত্রকলার ইতিহাস )।( পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার-বাংলা)।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১–১৯৫১) ছিলেন ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার পুরোধা এবং ' নব্যবঙ্গীয় চিত্ররীতি' বা 'বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট'- এর জনক। শুধু তাই নয়,তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় চিত্রকলা ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্তি পেয়ে নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ফিরে পায়।আর সেখানে-         • নতুন শিল্পরীতির প্রবর্তন হয় বাংলার চিত্রকলার জগতে। যেখানে পশ্চিমী রীতির অন্ধ অনুকরণ থেকে ভারতীয় শিল্পকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। ব্রিটিশ শিল্প প্রশাসক ও শিল্পতাত্ত্বিক ই. বি. হ্যাভেল-এর সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় তিনি মুঘল ও রাজপুত মিনিয়েচার এবং অজন্তা-এলোরার ফ্রেস্কোর ঐতিহ্যকে আধুনিক আঙ্গিকে মিশিয়ে এক নতুন শিল্পরীতির জন্ম দেন, যা পরবর্তীকালে ' বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট ' নামে পরিচিত হয়। অতঃপর-        • বাংলায়  স্বদেশী ভাবনার প্রকাশ ঘটে...

১৮১৩ সালের সনদ আইনটি আলোচনা করো। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এর গুরুত্ব লেখো।

১৮১৩ সালের সনদ আইনটি আলোচনা করো। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এর গুরুত্ব লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।              আমরা জানি যে, ১৮১৩ সালের সনদ আইন (Charter Act of 1813) ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।আর এই আইনের বলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চার্টারকে পুনর্নবীকরণ করে এবং ভারতের শাসন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে।সেখানে এই আইনের মূল ধারা বা বিধানগুলি হলো-         ১) কোম্পানির শাসন মেয়াদ বৃদ্ধিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে শাসন করার অধিকার আরও ২০ বছরের জন্য (অর্থাৎ ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত) নবীকরণ করা হয়। শুধু তাই নয়-সেই সাথে বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকারের অবসান হয়। যার ফলে-          ভারতে বাণিজ্যের উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বাতিল করা হয়।তবে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য এবং চা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বজায় ছিল।যার ফলে অন্যান্য ব্রিটিশ বণিকদের জন্য ভারতীয় বাণিজ্য উন্মুক্ত হয়।          ২)...

বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,তৃতীয় সেমিস্টার,বাংলা মেজর)।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৮৯৪) ভূমিকা যুগান্তকারী। তবে তিনি কেবল বাংলা উপন্যাসের জনক নন, সেই সাথে বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যেরও তিনি প্রকৃত স্থপতি হিসেবে প্রবন্ধ সাহিত্যে বিস্তর জায়গা অধিগ্ৰহণ করে নিয়েছেন। আমাদের এ কথা স্বীকার করতেই হয় যে,তাঁর পূর্বে বাংলা গদ্যের অস্তিত্ব থাকলেও, মননশীল, যুক্তিনির্ভর এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধের যথার্থ রূপটি তাঁর হাতেই প্রথম ধরা দেয়।আর সেখানে আমরা দেখি-         • বঙ্গদর্শন পত্রিকা ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের এক শক্তিশালী প্রবন্ধ প্রকাশের হাতিয়ার। আর সেখানে আমরা দেখি যে,বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধের বিকাশে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল ১৮৭২ সালে তাঁর সম্পাদিত ' বঙ্গদর্শন' পত্রিকা । এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করেই তিনি বাংলা গদ্যচর্চাকে একটি আন্দোলনের রূপ দেন। সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন,...

নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ফলে বাংলা নাট্যলয় ও নাট্য সাহিত্যে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়-তা আলোচনা করো।

নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ফলে বাংলা নাট্যলয় ও নাট্য সাহিত্যে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়-তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় /কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর)          আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি যে,' নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইন' হলো   ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি আইন।আর সেই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলা নাট্যশালা ও নাট্য সাহিত্যের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ-বিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচার বন্ধ করা। আসলে এই আইনের ফলে বাংলা নাট্যলয় অর্থাৎ রঙ্গমঞ্চ এবং নাট্য সাহিত্যে যে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা গিয়েছিল।আর সেই পরিবর্তন গুলি হলো-               • নাট্যলয়ে অর্থাৎ রঙ্গমঞ্চের পরিবর্তন•       নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইন সরাসরি রঙ্গমঞ্চের স্বাধীনতাকে খর্ব করে এবং এই আইন কার্যক্রমে যে পরিবর্তন আনে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নাটক মঞ্চায়নে সরকারি নিয়ন্ত্রণ করা।আর এই আইনের দ্বারা লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে এমন যেকোনো নাটক বা অভিনয় নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।...

বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বিহারীলাল চক্রবর্তী -আলোচনা করো।

" বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বিহারীলাল চক্রবর্তী"—উক্তিটির যথার্থতা বিচার করে বাংলা কাব্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার,বাংলা মেজর/মাইনর)           ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা কাব্যের ইতিহাসে বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫–১৮৯৪) এক যুগসন্ধিক্ষণের কবি।মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি এক স্বতন্ত্র সুর নিয়ে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন।আর সেখানে -                বাংলা কবিতায় যখন আখ্যানকাব্য ও মহাকাব্যের দোর্দণ্ড প্রতাপ, ঠিক সেই সময় বিহারীলাল কবিতাকে বাইরের জগৎ থেকে ফিরিয়ে এনে কবির অন্তর্জগতে স্থাপন করেন। তাঁর এই একক ও অনন্য সাধনার জন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ' বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি' বলে অভিহিত করেছেন।আসলে-            বিহারীলাল চক্রবর্তী আঁধার ও আলোর সন্ধিক্ষণের কবি।ভোরবেলা যেমন অন্ধকার পুরোপুরি কাটে না, আবার সূর্যও পুরোপুরি ওঠে না, ঠিক তেমনই বাংলা সাহিত্যের এক ক্রান্তিলগ...

প্রায়োগিক ড ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র কী?এই নীতি শাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো।

প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র (Applied Ethics) কাকে বলে?এই নীতিশাস্ত্রের প্র কৃতি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার,দর্শন মাইনর)।         আমরা জানি যে, নীতিবিদ্যার যে শাখায় তাত্ত্বিক নীতি (Moral Theories) বা আদর্শগুলোকে মানুষের বাস্তব জীবনের বিশেষ বিশেষ সমস্যা বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তাকে প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র বলা হয়। অর্থাৎ-           সাধারণ নীতিবিদ্যা আমাদের শেখায় যে- " সত্য বলা উচিত" বা "জীব হত্যা পাপ" । কিন্তু প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা প্রশ্ন তোলে-" একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে কি মিথ্যা বলা যাবে?" বা "আত্মরক্ষার জন্য কি হত্যা গ্রহণযোগ্য?" অর্থাৎ, বাস্তব জীবনে উদ্ভূত নৈতিক সংকট (Moral Dilemma) নিরসনে এই নীতিশাস্ত্র কাজ করে। পিটার সিঙ্গার এর মতে-       "ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র হলো দর্শনের সেই শাখা,যা নৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করে।" • প্রায়োগিক নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি (Nature of Applied Ethics)•     ...

বাংলা সাধারণ রঙ্গালয়ের ইতিহাসে ন্যাশনাল থিয়েটারের গুরুত্ব ও অবদান আলোচনা করো।

বাংলা সাধারণ রঙ্গালয়ের ইতিহাসে ন্যাশনাল থিয়েটারের গুরুত্ব ও অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার,বাংলা মেজর)।         আমরা জানি যে,বাংলা সাধারণ রঙ্গালয়ের ইতিহাসে ন্যাশনাল থিয়েটার (১৮৭২)-এর প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র একটি নাট্যদলের জন্ম নয়, বরং বলা যেতে পারে যে,এটি ছিল বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক অধ্যায়।ধনী বাবুদের বাগানবাড়ি থেকে থিয়েটারকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এর অবদান অপরিসীম।আর সেদিন-        ন্যাশনাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোক্তারা ছিলেন বাগবাজার অ্যামেচার থিয়েটার গোষ্ঠীর সদস্যরা বিশেষ করে নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি, রাধামধব কর প্রমুখ।তবে-সাধারণ রঙ্গালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর ১৮৭২ সালের আগে কলকাতায় নাট্যচর্চা ছিল মূলত বিত্তবান ও অভিজাত শ্রেণির বিনোদনের মাধ্যম যেমন-বেলগাছিয়া বা পাথুরিয়াঘাটা থিয়েটার। কিন্তু সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না।আর সেকারণেই              ন্যাশনাল থিয়েটারই প্রথম নাটককে সাধারণ মা...

রাধাকৃষ্ণণ কমিশন নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যগুলি লেখো।এর কয়েকটি সীমাবদ্ধতা লেখো।

রাধাকৃষ্ণণ কমিশন নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যগুলি লেখো।এর কয়েকটি সীমাবদ্ধতা লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো রাধাকৃষ্ণণ কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন।আর এই কমিশনটি গঠিত হয়েছিল ১৯৪৮-৪৯ খ্রীষ্টাব্দে।সেই সময়ে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের সভাপতিত্বে এই কমিশন উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে যে সুপারিশগুলি করেছিল, তা ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর এক্ষণে ঐ কমিশনের  নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যগুলি নিম্নে বিশেষ সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-  •রাধাকৃষ্ণণ নির্দেশিত উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ (Aims of Higher Education)।•           এক্ষণে বলে রাখা ভালো যে,রাধাকৃষ্ণণ কমিশন উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, বরং একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন গড়ে তোলার লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়েছিল।আর সেই লক্ষ্যগুলি হলো-           ১) নেতৃত্ব গঠনঃ   রাধাকৃষ্ণণ কমি...

ইউরোপের ধর্ম সংস্কারের ফলাফল আলোচনা করো।

ইউরোপের ধর্ম সংস্কারের ফলাফল আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস, মাইনর)।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, ইউরোপের  ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। শুধু তাই নয় এই ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের ফলে গোটা ইউরোপের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এক গভীর প্রভাব ফেলেছিল।আর সেই প্রভাবে আমরা দেখি যে-                 • ধর্মীয় ক্ষেত্রে ফলাফল• ক) খ্রিস্টান ধর্মের বিভাজনঃ ইউরোপের ধর্ম সংস্কারে খ্রিস্টান ধর্মের বিভাজন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। রোমান ক্যাথলিক চার্চ বিভক্ত হয়ে যায় এবং প্রটেস্ট্যান্ট (Protestant) নামে একটি নতুন ধর্মমত গঠিত হয়। উত্তর ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ প্রটেস্ট্যান্ট মতবাদ গ্রহণ করে ।যেমন- লুথারবাদ, ক্যালভিনবাদ প্রভৃতি।   খ)প্রতি-সংস্কার আন্দোলনঃ প্রটেস্ট্যান্টদের মোকাবিলা করতে এবং চার্চের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দূর করতে ক্যাথলিক চার্চ নিজেদের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, যা প্রতি-সংস্কার আন্দোলন নামে পরিচিত।ট্রেন্ট কাউন্সিল  এর মাধ্যমে চার...

ক্রেতা আদালত

দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান – "ক্রেতা আদালত" অধ্যায় থেকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান)।                •ক্রেতা আদালত কী বা কাকে বলে?-         আমরা জানি যে, ক্রেতা আদালত (Consumer Court) বা কনজিউমার ফোরাম হলো একটি বিশেষ ধরণের বিচার ব্যবস্থা, যা তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে-            •কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য কেনেন বা পরিষেবা (Service) নেন এবং তাতে ঠকে যান বা প্রতারিত হন, তবে তিনি এই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। ১৯৮৬ সালের ক্রেতা সুরক্ষা আইন (যা ২০১৯ সালে সংশোধন করা হয়েছে) অনুযায়ী এই আদালত গঠন করা হয়েছে।         ক্রেতা আদালতের প্রধান কাজ কী?        •ক্রেতা বা উপভোক্তারা যাতে সঠিক পণ্য এবং পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করাই এই আদালতের লক্ষ্য। সাধারণ আদালতের মতো এখানে দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া থাকে না। মূলত নিম্নলিখিত কারণে ক্র...

অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো।

অঙ্গরাজ্যের হাইকোর্টের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো। (উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ,দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার।)           আমরা ভারতীয় সংবিধান অনুসারে জানি যে,অঙ্গরাজ্যগুলির বিচার ব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছে হাইকোর্ট,যেটি রাজ্যের উচ্চ আদালত।সংবিধানের ২১৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যের জন্য একটি করে হাইকোর্ট থাকার কথা বলা হয়েছে।তবে দুই বা ততোধিক রাজ্যের জন্য একটি সাধারণ হাইকোর্টও থাকতে পারে।আর সেখানে-             হাইকোর্টের গঠন (Composition)           ভারতীয় সংবিধানের ২১৬ নং ধারা অনুযায়ী, একজন প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতির দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে হাইকোর্ট গঠিত হয়। হাইকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, কাজের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপতি এই সংখ্যা নির্ধারণ করেন। আর সেখানে-          হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সাথে পরামর্শ করে।অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগের সময় হাইকোর্টের প্রধান বিচা...

বেলগাছিয়া নাট্যশালা

বেলগাছিয়া নাট্যশালা কবে কাদের উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়? বাংলা নাট্য সাহিত্যের ইতিহাসে এই নাট্যশালার গুরুত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বাংলা নাট্য সাহিত্যের সূচনাপর্বে অনেক নাট্যশালা নিজেদেরকে নাট্য প্রেমীদের সম্মুখে বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছিল।আর সেই সকল নাট্যশালার মধ্যে বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে ' বেলগাছিয়া নাট্যশালা'  প্রতিষ্ঠা এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।কারণ মাত্র দু'জনের অতি উৎসাহে এই  নাট্যশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এই প্রেক্ষিতে সেখানে আমরা দেখি-      বেলগাছিয়া নাট্যশালা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ।আর সেদিন এই নাট্যশালাটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নিয়েছিলেন পাইকপাড়ার জমিদার দুই ভাই-রাজা প্রতাপচন্দ্র সিংহ এবং রাজা ঈশ্বরচন্দ্র সিংহ। তাঁদের বেলগাছিয়ার বাগানবাড়িতে বর্তমান পাইকপাড়া অঞ্চলে এই শৌখিন নাট্যশালাটি স্থাপিত হয়েছিল। সেদিন যার নেপথ্যে মহারাজ যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের পরামর্শ ও উৎসাহও বিশেষ গুরুত্ব...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রার্থনা কবিতার মূলভাব বস্তু বা বিষয় আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রার্থনা কবিতার মূলভাব বস্তু বা বিষয় আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'প্রার্থনা' কবিতাটি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কবিতাটির মূলভাব হলো কবির ব্যক্তিগত মুক্তি বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কামনার পরিবর্তে দেশ ও মানব সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ, নির্ভীকতা এবং কর্মের শক্তি প্রার্থনা করা।আর সেখানে আমরা দেখি-          • মিথ্যা বা তুচ্ছ আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্তির উপায়।কবি তাঁর প্রার্থনায় প্রথমেই ব্যক্তিগত সুখ-ভোগ বা ঐশ্বর্য লাভের মতো তুচ্ছ কামনা থেকে মুক্তি চেয়েছেন। তাঁর প্রার্থনা যেন তিনি জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারেন। তাই আমরা কবির কন্ঠে শুনতে পাই -  " বিপদ হতে মোরে রক্ষা করো– এ নহে মোর প্রার্থনা,             বিপদে আমি যেন না করি ভয়।" আসলে এখানে কবি বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা না করে বরং বিপদের মোকাবিলা করার মতো অভ্যন্তরীণ শক্তি ও নির্ভীকতা প্রার্থনা করছেন।আর সেই প্রার্থন...

নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিলের (১৮৭৬) উদ্দেশ্য ও তার প্রভাব আলোচনা করো।

নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিলের (১৮৭৬) উদ্দেশ্য ও তার প্রভাব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         • নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল (১৮৭৬)-এর উদ্দেশ্য-        বাংলার নাট্য সাহিত্যের ইতিহাস থেকে আমরা জানি যে, ১৮৭৬ সালে 'নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল ' বা অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৮৭৬ (The Dramatic ছিল বাংলার পক্ষে একটি কালা আইন।যে আইনের জেরে বাংলার রঙ্গমঞ্চকারী কর্মীদের কন্ঠরোধ করা হয়েছিল। আর এই আইন প্রনয়নে ব্রিটিশ সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল-          নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মূল ও একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনকারী রাজনৈতিক ও সমালোচনামূলক নাটকের অভিনয় নিষিদ্ধ করে সরকারের কর্তৃত্ব ও শাসনকে সুরক্ষিত করা। যেখানে-        • জনরোষের কন্ঠরোধ করতে ও  রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ করতে এই নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মঞ্চকে ব্রিটিশ-বিরোধী জাতীয়তাবাদী প্রচার-এর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে বিরত রাখা। আর সে কারণে ঊনবিংশ শতাব্দীর দ...

নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল কী? কেন এই নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল আনা হয়েছিল? আলোচনা করো ।

নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল কী? কেন এই নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল আনা হয়েছিল? আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।         • নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিলঃ আমরা জানি যে,নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল বা অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৮৭৬ (The Dramatic Performances Act, 1876) সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি আইন। আর সেই আইনের লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের মঞ্চে অনুষ্ঠিত নাটক, প্রহসন, পুতুলনাচ বা অন্যান্য নাট্যকর্মের বিষয়বস্তুকে নিয়ন্ত্রণ করা ও censor করা। আর সেখানে সেই আইনে বলা হয়-          •যেকোনো নাটকের বিষয়বস্তু যদি স্ক্যান্ডালাস, মানহানিকর, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বা অশ্লীল প্রকৃতির হয়, তবে সরকার সেই নাটকের অভিনয় নিষিদ্ধ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, যেসব নাটক ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অসন্তোষ বা বিদ্বেষ জাগাতে পারে বলে মনে করা হতো, সেইসব নাটকও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।আর-           এই নাট্য নিয়ন্ত্রণ বিল সংক্রান্ত আইন অমান্য করলে নাট্যকার, অভিনেতা, পরিচালক এবং মঞ্চের মালিককেও শাস্তি দেওয়ার বিধান বল...

উড এর শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি লেখো।

উড এর শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি লেখো (Recommendation of Educational Wood's Despatch) পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।         স্যার চার্লস উডের ১৮৫৪ সালের 'উডের ডেসপ্যাচ' ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একে ভারতে আধুনিক শিক্ষার মহাসনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। সেখানে আরো বলা হয় যে,প্রথমেই কোম্পানি কি উদ্দেশ্যে ভারতের শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।আর সেখানে-       ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য জ্ঞান বিস্তার করাই হবে এদেশের শিক্ষার উদ্দেশ্য।এই পাশ্চাত্য জ্ঞান হবে ভারতবাসীর পার্থিব আশীর্বাদ।এই পাশ্চাত্য শিক্ষা শুধু উচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধি বিকাশের সহায়ক হবে তা নয়, এ শিক্ষা ভারতবাসীর নৈতিক চরিত্র গঠনের সহায়ক হবে। আর সেখানে তার সুপারিশ গুলি হলো-       • শিক্ষার লক্ষ্যঃ পাশ্চাত্য জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে ভারতীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।যার মাধ্যমে ভারতীয়দের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি ঘটানো এবং তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত কর্মচারী তৈরি করা।     ...

বাংলা সাহিত্যে ও সমাজ সংস্কারে দিগদর্শন থেকে বঙ্গদর্শন পর্যন্ত সাময়িক পত্রের ভূমিকা আলোচনা করো।

বাংলা সাহিত্যে ও সমাজ সংস্কারে দিগদর্শন থেকে বঙ্গদর্শন পর্যন্ত সাময়িক পত্রের ভূমিকা আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আমরা জানি যে,সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে 'দিগদর্শন' থেকে 'বঙ্গদর্শন' পর্যন্ত সাময়িক পত্রগুলির ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী।শুধু তাই নয়,এই সময়কালে অর্থাৎ ১৮১৮ থেকে ১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত সাময়িক পত্রগুলি শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম ছিল না, বরং বলা যেতে পারে যে, আধুনিক বাংলা গদ্য, সাহিত্য, ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি তৈরি করেছিল।আর সেখানে আমরা দেখি-          প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ পথপ্রদর্শক যুগে (১৮১৮ - ১৮৪০) সাময়িক পত্রগুলি বাংলা গদ্যকে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরি করে।যার ফলে বাংলা গদ্য আপামর জনসাধারণের হৃদয় জুড়ে নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে-          • দিগদর্শন (১৮১৮) পত্রিকা। যে পত্রিকাটি ছিল বাংলা ভাষার প্রথম মাসিক সাময়িক পত্র । আর এই পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের মিশনারিদের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়।যা...

বাংলা কাব্য ও কবিতায় ঈশ্বর গুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো।

বাংলা কাব্য ও কবিতায় ঈশ্বর গুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মাইনর)          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) বাংলা কাব্য ও কবিতার ইতিহাসে যুগ-সন্ধিক্ষণের একজন কবি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। একদিকে তিনি ভারতচন্দ্রের মতো পুরোনো রীতির শেষ প্রতিনিধি ছিলেন, আবার অন্যদিকে তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার জন্মলগ্নকে সূচিত করেছিলেন।আর এই প্রেক্ষিতে তাঁর কাব্য কৃতিত্বে দেখি-        • লোক-জীবন ও সামাজিক চিত্রায়ণ। ঈশ্বর গুপ্তের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ-সচেতনতা এবং বাস্তবতা। তিনি তৎকালীন কলকাতার নাগরিক জীবন, সমাজের রীতিনীতি, ভণ্ডামি ও দুর্নীতিকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।আর সেখানে মূলত ব্যঙ্গাত্মক কবিতা ও স্যাটায়ারের মাধ্যমে সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। রক্ষণশীল সমাজ ও ইংরেজ প্রভাবিত নব্য বাবু সমাজ-কেউই তাঁর সমালোচনার বাইরে ছিল না। সেই ব্যঙ্গ বিদ্রুপে তাঁর কাব্য কৃতিত্বে দেখি-            " ভাতৃভাব ভাবি মনে, ...

ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথার (Martin Luther) র ভূমিকা আলোচনা করো।

ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথার (Martin Luther) র ভূমিকা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, ইতিহাস মাইনর)।          আমরা জানি যে, মার্টিন লুথার ছিলেন ইউরোপের ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, বিপ্লবী ও পথপ্রদর্শক। তাঁর ধর্মতাত্ত্বিক ধ্যানধারণা এবং চার্চের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ ছিল ষোড়শ শতকের এই আন্দোলনের মূল অনুঘটক।বলা যায়, তার প্রচেষ্টায় ও অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রভাবে সমগ্র বিশ্বে খ্রিস্টধর্মের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। তৎসহ নবজাগরণে এর প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল।আর সেখানে আমরা দেখি-       •মার্জনাপত্র বিক্রির প্রতিবাদঃ মার্টিন লুথার বিশ্বাস করতেন মানুষের সমস্ত কৃতকর্ম ঈশ্বর দ্বারা পূর্বনির্ধারিত। আর সেই কৃতকর্ম কোনদিন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংস্কারের জন্য অর্থ আদায় করতে পোপ দশম লিও এর প্রতিনিধিরা টেটজেল১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে এসে মার্জনাপত্র বিক্রি করতে শুরু করেন। মার্টিন লুথার চার্চের এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং রুখে দাঁড়ান। আর সেখানে-      ...

তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস

তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস (WBSU - NEP 2020) তৃতীয় সেমিস্টারে দর্শন মাইনর কোর্সের শিরোনাম সাধারণত Minor-3 বা M1-3 এবং বিষয়বস্তু হতে পারে: পাশ্চাত্য ন্যায়শাস্ত্র - I (Western Logic - I)।   M1-3 | পাশ্চাত্য ন্যায়শাস্ত্র - I (Western Logic - I) এই কোর্সে মূলত প্রতীকী বা প্রতীকায়িত যুক্তিবিজ্ঞান (Symbolic or Formal Logic) এবং আবর্তন-বিবর্তন (Immediate Inference)-এর উপর জোর দেওয়া হয়। ১. প্রাথমিক ধারণা (Basic Concepts)  •যুক্তিবিজ্ঞান কী? (What is Logic?)  •যুক্তি/অনুমান (Argument) এবং যুক্তি আকার (Argument Form)।  • বচন (Proposition) এবং বচনাকার (Propositional Form)।  •সত্যতা (Truth) ও বৈধতা (Validity)-র পার্থক্য।  • চিন্তার তিনটি চিরায়ত নিয়ম (Three Traditional Laws of Thought) (সংক্ষেপে)। ২. বচন ও তার শ্রেণীবিভাগ (Proposition and its Classification)  •নিরপেক্ষ বচন (Categorical Proposition):    •গুণ (Quality) ও পরিমাণ (Quantity) অনুসারে শ্রেণীবিভাগ (A, E, I, O)।    • পদের ব্যাপ্যতা (Distribution of Terms)।   ...

হারুন সালেমের মাসি গল্পটি এক সাধারণ নারীর অদম্য প্রতিবাদের কাহিনী -আলোচনা করো।

মহাশ্বেতা দেবীর 'হারুন সালেমের মাসি' গল্পের এক সাধারণ নারীর প্রতিবাদের কাহিনী- (বিষয়বস্তু) আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার)।            আমরা জানি যে,মহাশ্বেতা দেবীর ' হারুন সালেমের মাসি' গল্পটি সমাজ-সচেতনতা, মানবিকতা, শ্রেণী-সংগ্রাম এবং শোষণের বিরুদ্ধে এক সাধারণ নারীর অদম্য প্রতিবাদের কাহিনি।আর সেই কাহিনীতে তুলে ধরা হয়েছে-      • শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র ।যে জীবনচিত্রে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো গৌরবি মাসি।যে একজন জন্ম-খোঁড়া, বিধবা, সমাজের একেবারে প্রান্তিক ও নিঃস্ব নারী। এই গৌরবি মাসির জীবন যাপন অত্যন্ত কষ্টের।তাই তিনি শাক, পাতা, গুগলি তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এরই পাশাপাশি গল্পটিতে আছে-            শ্রেণী বৈষম্য সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায়তা ও দারিদ্র্যের এক নির্মম চিত্র।আর সেই চিত্রে আমরা দেখি-গৌরবি মাসি এবং হারার মায়ের মতো মানুষরা কীভাবে সামান্য সুবিধার জন্য সমাজের উচ্চশ্রেণীর মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।তবুও গল্পটিতে মা...