Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2025

বাংলা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ২০২৬,সিসি৫

West Bengal State University.Bengali CC-5 Suggestion 2025-26, Supplimentary Examination  CBCS.                            একক-১ ১।ক) * ** রূপক অলংকার কাকে বলে? এই অলংকার কয় প্রকার ?যেকোনো তিনটি রূপক অলংকার উদাহরণসহ আলোচনা করো২০২২ *** • উপমা অলংকার কাকে বলে? উদাহরণসহ উপমা অলংকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করো।২০২১ • ** যমক অলংকার কাকে বলে? উদাহরণসহ যমক অলংকারের বিভাগগুলি আলোচনা করো।২০২০ • অনুপ্রাস অলংকার এর সংজ্ঞা দাও। দৃষ্টান্ত উল্লেখপূর্বক অনুপ্রাসের প্রত্যেকটি শ্রেণীর ব্যাখ্যা করো।২০১৯,2024                       •অথবা• ***ছেকানুপ্রাস, স্মরণোপমা, ***ব্যাজস্ততি, ভ্রান্তিমান-২০২২ • শ্লেষ-বক্রোক্তি,***প্রতীয়ামানোৎপ্রেক্ষা,অতিশয়োক্তি, ** বিষম।২১ •নিরঙ্গ রূপক,শ্লেষ, *** দৃষ্টান্ত,***অর্থান্তরাস ২০ •*** উপযুক্ত উদাহরণ সহযোগে প্রতিবস্তুুপমা ও দৃষ্টান্ত অলংকারের আলোচনা কর।২০১৯                    একক- ৩ ৩।গ) *...

স্বামী বিবেকানন্দ-এর জীবনীমূলক প্রবন্ধ মহাবিপ্লবী সন্ন্যাসী

স্বামী বিবেকানন্দ-এর জীবনীমূলক প্রবন্ধ মহাবিপ্লবী সন্ন্যাসী (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)           ভূমিকা: ভারতের আধ্যাত্মিক আকাশে স্বামী বিবেকানন্দ এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তিনি কেবল একজন সন্ন্যাসী ছিলেন না, ছিলেন এক মহান সমাজসংস্কারক, দেশপ্রেমিক এবং যুবশক্তির প্রতীক। তাঁর কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল অভয়বাণী-                                                                             " বিরাজো হে বিশ্বরূপ!"            পরাধীন ভারতবর্ষের আত্মবিস্মৃত জাতিকে তিনি নতুন করে আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।         • জন্ম ও বাল্যকালঃ ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি উত্তর কলকাতার সিমলা অঞ্চলের এক অভিজাত দত্ত পরিবারে বিবেকানন্দ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ছি...

বাংলার উৎসব/বাংলার ব্রত/বারো মাসে তেরো পার্বণ।

বাংলার উৎসব/বাংলার ব্রত/বারো মাসে তেরো পার্বণ প্রবন্ধ রচনা (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)          ভূমিকা :" বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ"- এই প্রবাদটি কেবল লোককথা নয়, এটি বাঙালির রক্তে মিশে থাকা এক পরম সত্য। আসলে উৎসব মানেই বাঙালির কাছে মিলন, আনন্দ এবং একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি। নদীমাতৃক সুজলা-সুফলা এই বাংলায় উৎসবের ধারাটি ধর্ম, বর্ণ এবং শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে এক সর্বজনীন রূপ ধারণ করেছে।         উৎসবের বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিভাগঃ  বাংলার উৎসবকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: ধর্মীয় উৎসব, ঋতু উৎসব, সামাজিক উৎসব এবং জাতীয় উৎসব। এই বৈচিত্র্যই বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।         প্রধান ধর্মীয় উৎসবঃ  বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো শারদীয়া দুর্গাপূজা। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে মানুষ এই উৎসবে মেতে ওঠে। ঢাকের আওয়াজ আর শিউলি ফুলের গন্ধে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিম...

রাষ্ট্র ও হিংসা সম্পর্কে গান্ধীজীর দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করো।

রাষ্ট্র ও হিংসা সম্পর্কে গান্ধীজীর দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করো  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের CBCS সিলেবাস।         আমরা জানি যে,গান্ধীজীর রাষ্ট্রচিন্তা তাঁর অহিংস দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্র এবং অহিংসা একে অপরের পরিপন্থী।আর সেখানে-          ১)   রাষ্ট্র হলো একটি 'আত্মাহীন যন্ত্র'- গান্ধীজী রাষ্ট্রকে একটি যান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল- " রাষ্ট্র একটি প্রাণহীন যন্ত্রের মতো, যা কখনোই হিংসা থেকে মুক্ত হতে পারে না, কারণ এর জন্মই হয়েছে হিংসার ভিত্তিতে।"              মানুষের বিবেক বা আত্মা থাকে, কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো আত্মা নেই। তাই রাষ্ট্র কেবল আইনের ভয় এবং বলপ্রয়োগের (হিংসা) মাধ্যমেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।          ২)ঘনীভূত হিংসার প্রতীকঃ গান্ধীজী মনে করতেন, একজন ব্যক্তি যদি হিংসা করে তবে তার একটি সীমা থাকে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন হিংসা করে, তখন তা হয় প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যাপক। রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং কার...

বচনের বিরোধীতা কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার বচনের বিরোধীতা উদাহরণসহ আলোচনা করো।

বচনের বিরোধীতা কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার বচনের বিরোধীতা উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস) বচনের বিরোধিতাঃ  যদি দুটি নিরপেক্ষ বচনের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় এক থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেবল গুণের, অথবা কেবল পরিমাণের, অথবা গুণ ও পরিমাণ উভয়েরই পার্থক্য থাকে, তবে সেই বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে 'বচনের বিরোধিতা' বলে। বিরোধিতার শর্তাবলী- ১) দুটি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক হতে হবে। ২) বচন দুটির মধ্যে গুণ অথবা পরিমাণ অথবা উভয়ের পার্থক্য থাকতে হবে।            •বচনের বিরোধিতার প্রকারভেদ• প্রথাগত যুক্তিবিজ্ঞান অনুযায়ী বচনের বিরোধিতা চার প্রকারঃ ১) বিপরীত বিরোধিতাঃ  যখন দুটি সামান্য বচনের (A এবং E) মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকা সত্ত্বেও কেবল গুণের পার্থক্য থাকে, তখন তাদের সম্বন্ধকে বিপরীত বিরোধিতা বলে। উদাহরণ-   A- সকল মানুষ হয় মরণশীল।    E-কোনো মানুষ নয় মরণশীল। ২) অধীন-বিপরীত বিরোধিতাঃ  যখন দুটি বিশেষ বচনের (I এবং O) মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকা সত্ত্বেও ...

কাকতালীয় দোষ কাকে বলে ও কখন ঘটে?

কাকতালীয় দোষ কাকে বলে ? কাকতালীয় দোষ কখন ঘটে (Post Hoc Ergo Propter Hoc) পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন সিলেবাস)।         যুক্তিবিজ্ঞানী মিল- এর পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মধ্যে 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' অপপ্রয়োগ করলে এই দোষ ঘটে। কারণ ও কার্যের মধ্যে কোনো আবশ্যিক বা প্রাসঙ্গিক সম্বন্ধ না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র একটি ঘটনা অন্যটির আগে ঘটেছে বলেই যদি আগের ঘটনাটিকে পরের ঘটনাটির কারণ বলে গণ্য করা হয়, তবে তাকে কাকতালীয় দোষ বলে।সহজ কথায় বলা যায় যে-       কোনো একটি ঘটনা (A) আগে ঘটেছে এবং অন্য একটি ঘটনা (B) পরে ঘটেছে—এই সাময়িক পারম্পর্য দেখে যদি ভুলবশত মনে করা হয় যে A হলো B-এর কারণ, তবেই এই দোষ হয়।               কাকতালীয় দোষ কখন ঘটে?  ১) পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ হিসেবে গণ্য করলে: কোনো একটি কাকতালীয় পূর্ববর্তী ঘটনাকে (যা আসলে কারণ নয়) কারণ হিসেবে গ্রহণ করলে এই দোষ ঘটে। ২) ব্যতিরেকী পদ্ধতির অপপ্রয়োগ: যদি পরীক্ষাগারের বাইরে বাস্তব জীবনের অনিয়ন্ত্রিত কোনো ক্ষেত্রে দুটি ঘটনার সহ-উপস্থিতি দেখে এ...

আবর্তন ও বিবর্তন কাকে বলে? উদাহরণসহ আবর্তন ও বিবর্তনের নিয়মগুলি আলোচনা করো।

আবর্তন (Conversion) ও বিবর্তন (Obversion)। নিচে এদের নিয়ম ও উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস)। ১)আবর্তনঃ যে অমাধ্যম অনুমানে গুণের পরিবর্তন না করে উদ্দেশ্য ও বিধেয়-র স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়, তাকে আবর্তন বলে।                 • আবর্তনের নিয়মাবলী•  •আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।  •আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হবে।  •আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ এক থাকবে (সদর্থক হলে সদর্থক, নঞর্থক হলে নঞর্থক)।  •যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়, সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না।               • বিভিন্ন বচনের আবর্তন•  •A বচনের আবর্তন করে পাই I বচন (একে সীমিত আবর্তন বলে)    আশ্রয়বাক্য (A): সকল মানুষ হয় মরণশীল।    সিদ্ধান্ত (I): কোনো কোনো মরণশীল জীব হয় মানুষ।  •E বচনের আবর্তন করে পাই E  বচন (সরল আবর্তন)    আশ্রয়বাক্য (E): কোনো মানুষ নয়...

রূপসী বাংলা' কাব্যটি কার লেখা? কাব্যটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।

' রূপসী বাংলা' কাব্যটি কার লেখা? কাব্যটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও টীকা (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর)।        আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে জীবনানন্দ দাশের ' রূপসী বাংলা' কাব্যটি লেখা।আর এই 'রূপসী বাংলা' কাব্যটির কাব্যপরিচয়ে আমরা দেখি-          ' রূপসী বাংলা ' কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ' তিমির হননের কবি' জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগুলোর একটি।যদিও এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ১৯৩২-৩৩ সালের দিকে (প্রধানত ১৯৩৪ সালে) রচিত হয়েছিল, কিন্তু কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৭ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।আর সেখানে আমরা দেখি-           • নিসর্গ চেতনা র কাব্য রূপসী বাংলা।এই কাব্যের মূল ভিত্তি হলো বাংলার প্রকৃতি। তবে এই প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথের মতো আধ্যাত্মিক নয়, বরং অত্যন্ত লৌকিক ও পার্থিব। ধানসিঁড়ি নদী, হিজল-বট-অশ্বত্থের ছায়া, শঙ্খচিল, লক্ষ্মীপেঁচা আর খৈয়ের ধানের গন্ধে কবি এক অনন্য মায়াজাল বুনেছেন।আর সেখানে-          • স্বদেশপ্রেম ও ঐতিহ্য রূপসী বাংল...

আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে হাঁসুলী বাঁকের উপকথা র সার্থকতা বিচার করো টীকা।

আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে হাঁসুলী বাঁকের উপকথা র সার্থকতা বিচার করো টীকা, (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।             বাংলা সাহিত্যে আঞ্চলিক উপন্যাসের ধারায় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ' হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ' (১৯৪৭) একটি কালজয়ী সৃষ্টি। নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক পরিবেশ এবং সেখানকার জনজীবনের নিখুঁত চিত্রায়নের মাধ্যমেই এই উপন্যাসটির সার্থকতা বিচার করা হয়। আর সেখানে-         • নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পটভূমি র আদলে নির্মিত হয়েছে হাঁসুলী বাঁকের উপকথা উপন্যাসটি।আর সেখানে আঞ্চলিক উপন্যাসের প্রথম শর্ত হলো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ।এখানে বীরভূম জেলার কোপাই নদীর বাঁকে অবস্থিত 'হাঁসুলী বাঁক' এবং তার সংলগ্ন বাঁশবাঁদি গ্রামটিই উপন্যাসের প্রাণকেন্দ্র। নদী, জঙ্গল এবং মাটির এক বিশেষ রূপ এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি-         • অন্ত্যজ শ্রেণির জনজীবন চিত্রিত হাঁসুলী বাঁকের উপকথা উপন্যাসটিতে। তবে এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং পুরো কাহার সম্প্রদায়। তাদের...

বাংলা শিশু সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান আলোচনা করো।

বাংলা শিশু সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা অনার্স CBCS)।       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এই কবি শিশুদের জন্য যা লিখেছেন, তা নিছক মনোরঞ্জন নয়, বরং তাতে জড়িয়ে আছে আধুনিক মনন এবং আশ্চর্য এক কল্পনাপ্রবণতা।আর সেখানে-        বুদ্ধদেব বসু মূলত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক শক্তিমান কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর শিশু সাহিত্যেও একটি স্বতন্ত্র ও মূল্যবান অবদান রয়েছে। এই ক্ষেত্রেও তিনি কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রুচিবোধ, কল্পনা ও নৈতিক সংবেদনশীলতা গঠনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন।আর সেখানে আমরা দেখি-           বুদ্ধদেব বসু শিশুদের জন্য কলম ধরেছিলেন মূলত এক ধরণের শৈল্পিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাঁর লেখায় চিরাচরিত রূপকথার চেয়ে কল্পবিজ্ঞান এবং অ্যাডভেঞ্চার বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তার প্রধান কারণ-          তিনি শিশুদের বুদ্ধিকে খাটো করে দেখেননি। তাঁর লেখায় বৈজ্ঞানিক যুক্তি এবং যুক্তিনিষ্...

গান্ধীজী থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

         • গান্ধীজী থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর•পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর  ১)• গান্ধীজীর বিকল্প আধুনিকতাকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?            উত্তরঃ গান্ধীজীর 'বিকল্প আধুনিকতা' হলো পশ্চিমী ভোগবাদী ও যন্ত্রনির্ভর সভ্যতার বিপরীতে একটি নীতিধর্মী ও মানবকেন্দ্রিক জীবনদর্শন। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো- নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা এবঃ  বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বনির্ভরতা। ২)• গান্ধীজীর সর্বোদয় কী? উত্তরঃ সর্বোদয় শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'সকলের উদয়' বা 'সকলের কল্যাণ'। জন রাস্কিনের 'আনটু দিস লাস্ট' (Unto This Last) গ্রন্থটি পাঠ করে গান্ধীজী এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। এর মূল বৈশিষ্ট্য-অন্তিম ব্যক্তির কল্যাণ যা পিছিয়ে পড়া মানুষটির উন্নতির মাধ্যমেই সমগ্র সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। অপরদিকে-শ্রেণিহীন সমাজ গঠন যা এমন এক সমাজব্যবস্থার কথা বলে যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও সুযোগ পাবে এবং যার ভিত্তি হবে সত্য ও অহিংসা। ৩)। গান্ধীজীর নারী চেতনার মূল ভিত্তি কী ছিল?       ...

সর্বশিক্ষা অভিযান কী (Sarva Shiksha Abhiyan - SSA)ও তার বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্যসমূহ গুলি আলোচনা করো।

সর্বশিক্ষা অভিযান কী (Sarva Shiksha Abhiyan - SSA)ও তার বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্যসমূহ গুলি আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর সিলেবাস)।            আমরা জানি যে,ভারতের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০১ সালে সর্বশিক্ষা অভিযান কর্মসূচিটি চালু করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে,তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেছিলেন। সেদিন এই সর্বশিক্ষা অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যে- ' সবার জন্য শিক্ষা '। আর এই শিক্ষা অভিযানকে সফল করতে-        ২০০৩ সালের মধ্যে দেশের সকল শিশুকে বিদ্যালয়ের আঙিনায় নিয়ে আসা। সেদিন আরো বলা হয় যে, ২০১০ সালের মধ্যে সকল শিশুর ৮ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। আর এই মহান কাজ সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে এবং সামাজিক বিভেদ অর্থাৎ লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা। আর এই সর্বশিক্ষা অভিযানের মূল মন্ত্র হল-           ...

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যসমূহ বা উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো।

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যসমূহ বা উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, দর্শন মাইনার সিলেবাস)।           আমরা জানি যে,পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো- মানুষের আচরণকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।আর এই প্রেক্ষিতে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য গুলি হল-        ১)নৈতিক পরিধির বিস্তারঃ সাধারণ নীতিশাস্ত্র কেবল মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো এই নৈতিক পরিধিকে প্রসারিত করে তার মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী, নদী, পাহাড় এবং সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা। অর্থাৎ, মানুষ ছাড়াও প্রকৃতির অন্যান্য উপাদানের যে সহজাত মূল্য আছে, তা স্বীকার করা।       ২)মনুষ্য-কেন্দ্রিকতা দূরীকরণঃ আমাদের প্রচলিত ধারণা ছিল যে, প্রকৃতি কেবল মানুষের ভোগের জন্য। পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র এই সংকীর্ণ 'মনুষ্য-কেন্দ্রিক' চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এর লক্ষ্য হলো মানুষকে এটি ব...

ভূমি নীতিশাস্ত্র এবং প্রাণকেন্দ্রিকতা বাদের আলোচনা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

ভূমির নীতিশাস্ত্র (Land Ethics) এবং প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ (Biocentrism)-এর আলোচনা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, দর্শন মাইনর)           • ভূমির নীতিশাস্ত্র (Land Ethics)•            আমরা জানি যে, অল্ডো লিউপোল্ড ভূমি নীতিশাস্ত্রের প্রধান প্রবক্তা । আসলে লিওপোল্ডের মতে, নৈতিকতার পরিধি কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে মাটি, জল, উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের নিয়ে গঠিত সমগ্র 'ভূমি' বা বাস্তুতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।আর সেখানে -       সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গিঃ সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একক কোনো প্রাণীর চেয়ে সমগ্র 'জৈব সম্প্রদায়' এর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।আর সেখানে লিওপোল্ড বলেন-   "একটি কাজ তখনই সঠিক যখন তা জৈব সম্প্রদায়ের অখণ্ডতা, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য রক্ষা করে।"    আর এখানে মানুষের ভূমিকা লক্ষ্যণীয়।আসলে মানুষ প্রকৃতির প্রভু নয়, বরং সে প্রাকৃতিক সম্প্রদায়ের একজন সাধারণ সদস্য মাত্র।           • প্রাণ-কেন্দ্রিকতাবাদ (Bi...

নবান্ন নাটকের (১৯৪৪) গঠনশৈলী বা আঙ্গিক বিচার করো ।

' নবান্ন' নাটকের (১৯৪৪) গঠনশৈলী বা আঙ্গিক বিচার করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)       বিজন ভট্টাচার্য প্রথাগত থিয়েটারের অলঙ্কারিক ভাষা ও কৃত্রিমতা বর্জন করে 'নবান্ন' নাটকে এক চরম বাস্তববাদী গঠনশৈলী গ্রহণ করেছিলেন।আর সেই গঠনশৈলীতে নির্মিত নবান্ন নাটকে আমরা দেখি-           • দৃশ্য পরিকল্পনা ও দ্রুত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন বিজন ভট্টাচার্য।'নবান্ন' নাটকে ৪টি অঙ্ক এবং মোট ১৫টি দৃশ্য রয়েছে। প্রথাগত নাটকের মতো দীর্ঘ সংলাপে দৃশ্য টেনে না নিয়ে, তিনি ছোট ছোট দৃশ্যের মধ্য দিয়ে কাহিনীর গতি বজায় রেখেছেন।আর সেখানে আমরা দেখি-             ট্রেনের কামরা, লঙ্গরখানা, কলকাতার রাস্তা কিংবা গ্রামের ধানের মাঠ-দৃশ্যের এই দ্রুত পরিবর্তন নাটকটিতে একটি সিনেমার মতো গতিময়তা  দান করেছে।           • গণনায়ক বা সামষ্টিক চরিত্র সৃষ্টিতে বিজন ভট্টাচার্য অন্যতম বিশিষ্ট নাট্যকার।নবান্ন নাটকের অন্যতম প্রধান গঠনগত বৈশিষ্ট্য হলো কোনো একক 'নায়ক' বা 'নায়িকা'...

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ও ফলাফল আলোচনা করো।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) প্রভাব ও ফলাফল আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) চতুর্থ সেমিস্টার ও দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাসের সিলেবাস অনুযায়ী)          আমরা জানি যে, ১৯১৪ সালে শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।তবে আমারা এখানে বলতে পারি এই যুদ্ধ কেবলমাত্র রণক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আমূল বদলে দিয়েছিল।আর বদলে যাওয়ার সেই কাঠামোয় আমরা দেখি-       ১) রাজনৈতিক প্রভাবঃ পুরানো সাম্রাজ্যের যুদ্ধের ফলে ইউরোপের চারটি প্রধান রাজবংশ ও সাম্রাজ্যের পতন ঘটে- জার্মানির হোয়েনজোলার্ন, অস্ট্রো-হাঙ্গেরির হ্যাবসবার্গ, রাশিয়ার রোমানভ এবং তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্য।যার ফলে-         • নতুন রাষ্ট্রের উত্থানঃ ভার্সাই চুক্তি ও প্যারিস শান্তি সম্মেলনের মাধ্যমে ইউরোপের মানচিত্র বদলে যায়।আর তার ফলে-পোল্যান্ড, চেকোস্লোভিয়া, যুগোশ্লাভিয়া, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। শুধু তাই ন...

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের মূল প্রশ্নপত্র।

' হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি বাংলা প্রথম সেমিস্টার) ১. অতিসংক্ষিপ্ত ও বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (১ নম্বরের জন্য) ১)লেখকের প্রকৃত নাম ও ছদ্মনাম কী? ২)"সিজার নাকি কলম দিয়ে আঘাত করেছিলেন ক্যাসকাকে"— সিজার কোন কলম দিয়ে আঘাত করেছিলেন? (উত্তর: স্টাইলাস)  ৩)শৈশবে লেখক কিসে লেখা অনুশীলন করতেন? (উত্তর: কলাপাতা কেটে)  ৪) প্রাচীন মিশরে ব্যবহার করা হতো এমন একটি লেখার সরঞ্জামের নাম লেখো। (উত্তর: প্যাপিরাস)  ৫)ফাউন্টেন পেনের আদি নাম কী ছিল? (উত্তর: রিজার্ভার পেন)  ৬)"আশ্চর্য, সব আজ বিলুপ্তির পথে।"— কী বিলুপ্তির পথে? ••২)সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বরের জন্য)  ১)কালি তৈরির ঘরোয়া পদ্ধতি: "আমরা কালি তৈরি করতাম নিজেরাই"— লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা কীভাবে বাড়িতে কালি তৈরি করতেন তা সংক্ষেপে লেখো।  ২)লিপি-কুশলীদের কথা: "পণ্ডিতেরা বলেন, কলমের দুনিয়ায় যা সত্যিকারের বিপ্লব ঘটায় তা হলো ফাউন্টেন পেন"— ফাউন্টেন পেন কীভাবে বিপ্লব ঘটিয়েছিল?  ৩)ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী: লিপি-কুশলী কাদের বলা হয়...

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

' হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় (MCQ) এবং অতিসংক্ষিপ্ত (SAQ) প্রশ্ন ও উত্তর (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি প্রথম সেমিস্টার বাংলা)। • ' হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটি কার লেখা?   উত্তরঃ শ্রীপান্থ (আসল নাম নিখিল সরকার)। • ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি-কুশলী কাদের বলা হয়?   উত্তরঃ যারা খুব সুন্দর হাতের লেখায় দক্ষ এবং প্রাচীনকালে হাতে লিখে পুঁথি বা দলিল তৈরি করতেন, তাদের ক্যালিগ্রাফিস্ট বলা হয়। •" কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি—" শূন্যস্থান পূরণ করো।   উত্তরঃ " কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুন্শি।" • ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম 'ঝরনা কলম' কে দিয়েছিলেন?   উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। • " জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন"—কার হাতে এই কলমের জন্ম হয়েছিল?       উত্তরঃ লুই এডসন ওয়াটারম্যান।    • লিপি-কুশলীদের সম্মান কতটা ছিল?   উত্তরঃ মুঘল দরবারে লিপি-কুশলীদের প্রচুর সম্মান ছিল।আর সেখানে বলা হতো, যার হাতের লেখা যত সুন্দর, তার খাতির তত বেশি।     • পালকের কলমের ইংরেজি নাম কী?     উত্তরঃ কুইল ।     • ল...

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নিখিল সরকার (ছদ্মনাম: শ্রীপান্থ) রচিত ' হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ' প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,' হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক শ্রীপান্থ আধুনিক যান্ত্রিক যুগে কলমের বিবর্তন এবং তার ফলে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো দিনের আবেগ ও ঐতিহ্যের কথা বর্ণনা করেছেন। প্রবন্ধকার নিজে একজন কলম-প্রেমিক এবং পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় কলমের প্রতি তাঁর টান প্রবন্ধটির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে।আর সেই প্রবন্ধে আমরা দেখি-         কলমের প্রাচীন ইতিহাস ও কালি তৈরির পদ্ধতি। প্রবন্ধকার তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন যে, একসময় বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করা হতো। কালির অভাব দূর করতে গ্রাম্য পদ্ধতিতে কালি তৈরি করা হতো। বাড়িতে লোহার কড়াইয়ে তিল, ত্রিফলা ও শিমুল ছাল পুড়িয়ে বা আতপ চাল পুড়িয়ে কালি তৈরি হতো। এই কালি তৈরির বিষয়টি ছিল এক উৎসবের মতো। তবে অতঃপর আসে-       ফাউন্টেন পেনের বিপ্লব ।আসলে কলমের বিবর্তনের ইতিহাসে লুই এডসন ওয়াটারম্যান-এর হাত ধরে ফাউন্টেন পেনের ( ...

গণনাট্য আন্দোলনে বিজন ভট্টাচার্যের অবদান আলোচনা করো।

গণনাট্য আন্দোলনে বিজন ভট্টাচার্যের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মেজর)            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (IPTA) এবং বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের বাংলা নাট্য আন্দোলনে বিজন ভট্টাচার্য (১৯০৬-১৯৭৮) এক কালজয়ী নাম। সমাজমনস্কতা, শোষিত মানুষের আর্তি এবং নাট্য আঙ্গিকের আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।আর সেখানে গণনাট্য আন্দোলনে বিজন ভট্টাচার্যকে দেখি-         •পটভূমি ও গণনাট্য আন্দোলনের সূচনা য় বিজন ভট্টাচার্য অন্যতম পথিকৃৎ।১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে যখন বাংলার জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের হাত ধরে 'ভারতীয় গণনাট্য সংঘ' প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্থপতি। মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুম ড্রামা থেকে নাটককে বের করে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে।         • নবান্ন বিজন ভট্টাচার্যের এক যুগান্তকারী সৃষ্টি বলতেই হয়।১৯৪৪ সালে বিজন ভট্টাচার্যের রচিত ও অভিন...

ছাত্রসমাজ ও তাদের দায়বদ্ধতা।

'ছাত্রসমাজ ও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা' প্রবন্ধ রচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)।       ভূমিকাঃ" ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ"- ছাত্রদের প্রধান কাজ পড়াশোনা হলেও তারা সমাজের বাইরে নয়। ছাত্ররাই হলো দেশের ভবিষ্যৎ এবং জাতির মেরুদণ্ড। একটি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে ছাত্রসমাজের দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য। বর্তমান যুগে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশ সচেতনতা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর।" আধুনিক সভ্যতার এই সংকটে ছাত্ররাই পারে সমাজ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে। •সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ছাত্রসমাজ•       ছাত্রসমাজ প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং সংস্কারমুক্ত। তাই সমাজের যেকোনো কুসংস্কার, অশিক্ষা বা সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াতে পারে। রক্তদান শিবির আয়োজন করা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, কিংবা মহামারির সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো-সবক্ষেত্রেই ছাত্রসমাজের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্যহীন পরিবেশ, যার মোকাবিলায় ছাত্ররাই হলো প্রধান সৈনিক।    • পরিবেশ রক...

আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের কৃতিত্ব ও শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পদ্মাবতী' সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের কৃতিত্ব ও শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পদ্মাবতী' সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, মধ্যযুগে  বাংলা সাহিত্যে আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওল এক অনন্য প্রতিভা। তবে সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন বাংলা সাহিত্যের অধিকাংশ স্থান জুড়ে ছিল দেব-দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তন, তখন আলাওল মানবীয় প্রেম এবং পাণ্ডিত্যের সংমিশ্রণে এক নতুন ধারার সূচনা করেন। আর সেখানে-                   •কবি সৈয়দ আলাওলের কৃতিত্ব•       সৈয়দ আলাওল কেবল একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত।আর সেখানে তাঁর কৃতিত্বের প্রধান দিকগুলো হলো-         • মানবকেন্দ্রিকতাঃ  মধ্যযুগের দেব-নির্ভর সাহিত্যের বাইরে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখ ও আবেগ-অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।          • অনুবাদ শিল্পঃ তিনি মূলত অনুবাদক হলেও তাঁর অনুবাদ ছিল 'ভাবানু...

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র কাকে বলে? পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের গুরুত্ব আলোচনা করো।

  পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র ( Environmental Ethics) কাকে বলে? পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের গুরুত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস) পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রঃ নীতিবিদ্যার যে শাখায় মানুষের সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের নৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবেশের অন্তর্গত বিভিন্ন উপাদানের (যেমন- প্রাণী, উদ্ভিদ, নদ-নদী, পাহাড়) নৈতিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র বলে। আসলে -          প্রথাগত নীতিবিদ্যা সাধারণত মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেয়, কিন্তু পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র মানুষের নৈতিক সীমানাকে প্রসারিত করে সমগ্র প্রকৃতির ওপর দায়বদ্ধতা স্বীকার করে।আর সেখানে পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-     •পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র মানুষের পাশাপাশি অ-মানব (non-human) জগতের অধিকারের কথা বলে।     •প্রকৃতির নিজস্ব বা অভ্যন্তরীণ মূল্য (Intrinsic Value) আছে কি না, তা বিচার করে।     •ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার নৈতিক বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করে।       ...

পিটার সিঙ্গার-এর প্রজাতিবাদ তত্ত্বের প্রধান দিকগুলো আলোচনা করো।

পিটার সিঙ্গার-এর প্রজাতিবাদ তত্ত্বের প্রধান দিকগুলো আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস-•পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা•)             প্রজাতিবাদ (Speciesism) কী?        পিটার সিঙ্গারের মতে , যেমন বর্ণবাদ বা লিঙ্গবাদ মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে, ঠিক তেমনি 'প্রজাতিবাদ' হলো নিজের প্রজাতির (মানুষ) প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং অন্য প্রজাতির (প্রাণী) স্বার্থকে অবজ্ঞা করার একটি কুসংস্কার।আর সেখানে মূল কথা হলো-          শুধুমাত্র অন্য প্রজাতির সদস্য হওয়ার কারণে কোনো প্রাণীর স্বার্থকে গুরুত্ব না দেওয়াটা নৈতিকভাবে ভুল। আর সেকারণেই পিটার সিঙ্গার বলেন-                   • সমান বিবেচনার নীতিঃ সমান বিবেচনার নীতি অনুসারে সিঙ্গার বলেন যে, নৈতিকতার ভিত্তি হওয়া উচিত ' স্বার্থের সমান বিবেচনা'। মানুষের যেমন কষ্ট না পাওয়ার বা সুখে থাকার স্বার্থ আছে, অন্যান্য ইতর প্রাণীরও ঠিক একই রকম স্বার্থ আছে। তবে-         ...

পিটার সিঙ্গার (Peter Singer) প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা সম্পর্কে কী বলেছেন? প্রাণীদের কি নৈতিক অধিকার থাকা উচিত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

পিটার সিঙ্গার (Peter Singer) প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা সম্পর্কে কী বলেছেন? প্রাণীদের কি নৈতিক অধিকার থাকা উচিত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর)        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অস্ট্রেলীয় নীতি-দার্শনিক পিটার সিঙ্গার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'অ্যানিমাল লিবারেশন'( 1975)-এ প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা এবং অধিকার সম্পর্কে বৈপ্লবিক ধারণা প্রদান করেছেন।আর সেখানে প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা সম্পর্কে পিটার সিঙ্গারের দর্শন হিসেবে পরিগণিত। আসলে পিটার সিঙ্গার একজন উপযোগবাদী দার্শনিক। তাঁর মতে-নৈতিকতার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত-                                                                                  'সুখ বৃদ্ধি' এবং 'দুঃখ বা যন্ত্রণা হ্রাস' ।           পিটার সিঙ্গার প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্...

পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র থেকে পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্নাবলী।

পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU)-এর পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর (Minor/Applied Ethics) সিলেবাস অনুযায়ী ' পরিবেশগত নীতিশাস্ত্র' (Environmental Ethics) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বিগত বছরের প্রশ্নের ধারা এবং বর্তমান সিলেবাসের কাঠামো বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রশ্ন। বড় প্রশ্ন (১৫ নম্বরের প্রশ্ন) এগুলো সাধারণত ব্যাখ্যামূলক এবং তুলনামূলক উত্তরের জন্য আসে:  * মনুষ্য-কেন্দ্রিক বনাম অ-মনুষ্য-কেন্দ্রিক মতবাদ: মনুষ্য-কেন্দ্রিক (Anthropocentrism) এবং অ-মনুষ্য-কেন্দ্রিক (Non-anthropocentrism) নীতিশাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বিস্তারিত আলোচনা করো।  * গভীর বাস্তুসংস্থান (Deep Ecology): আর্ন নায়েস (Arne Naess)-এর 'Deep Ecology' বা গভীর বাস্তুসংস্থান মতবাদটি ব্যাখ্যা করো। এই প্রসঙ্গে 'অগভীর বাস্তুসংস্থান' (Shallow Ecology)-এর সাথে এর পার্থক্য দেখাও।  * ভূমির নীতিশাস্ত্র (Land Ethics): অল্ডো লিওপোল্ড (Aldo Leopold)-এর 'ল্যান্ড এথিক্স' বা ভূমির নীতিশাস্ত্র তত্ত্বটি আলোচনা করো।  • Done 26/9/25  প্রাণী অধিকার: পিটার সিঙ্গার (Peter Singer) প্রাণীদের নৈতিক মর্যাদা...

সার্ক-এর সাফল্য ও ব্যর্থতার কারণগুলো আলোচনা করো।

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান।সার্ক-এর সাফল্য ও ব্যর্থতার কারণগুলো আলোচনা করো।                     • সার্ক-এর সাফল্য•        •সার্ক ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।যে পদক্ষেপগুলি এইসকল অঞ্চলের সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করে।আর সেখানে ১৯৯৩ সালে SAPTA এবং ২০০৪ সালে SAFTA চুক্তি স্বাক্ষর সার্কের অন্যতম বড় সাফল্য।আর সেই সাফল্যের ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান ও বাণিজ্য শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার ফলে-       • সার্ক কৃষি কেন্দ্রঃ  বাংলাদেশে 'সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার' (SAC) সহ বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।যে গবেষণা কেন্দ্র কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।        • সামাজিক সনদঃ  ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ সম্মেলনে সার্কের সামাজিক সনদ গৃহীত হয়।যে সনদের লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ , শিশু কল্যাণ, নারী অধিকার রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উ...

সার্ক কী? সার্কের উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি গুলি আলোচনা করো ।

সার্ক কী? সার্কের উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি গুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান)।        সার্ক ( SAARC) বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা হলো দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এর পূর্ণরূপ হলো South Asian Association for Regional Cooperation।যে সংগঠনটি১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।বর্তমান সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান এই আটটি দেশ।আর সার্কের সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।                • সার্কের উদ্দেশ্যসমূহ• সার্কের সনদে এইসকল সংগঠনের দেশগুলির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সেদিন বেশ কিছু লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়। আর সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যসমূহ হলো-      • জনকল্যাণঃ  দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।  ...

চর্যাপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আলোচনা করো।

চর্যাপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর)    •    ' চর্যাপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাঙালির নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনে এর স্থান অনন্য। আর সেখানে এই চর্যাপদের আবিষ্কারকাল হলো ১৯০৭ সাল, যেটি আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়। আর গ্ৰন্থটি  প্রকাশ হয় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে। আর সেখানে পদকর্তা হিসেবে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া যায় (মতান্তরে ২৩ জন)। আর সেখানে এই চর্যাপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিম্নাকারে আলোচনা করা হলো-       চর্যাপদ অনুসারে আমরা জানি যে,১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে ' চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' বা চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। এটি কেবল বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধন-সংগীত নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণের দলিল, যা না থাকলে বাংলা ভাষার উৎস ও প্রাচীন বাঙালির জীবনধারা চিরকাল অন্ধকারে ...

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের ধর্মীয় সাধন-তত্ত্বের গূঢ় সংকেতবাহী গান হলেও, কবিরা রূপক হিসেবে তৎকালীন বাংলার যে সমাজচিত্র এঁকেছেন, তা আলোচনা করো।

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের ধর্মীয় সাধন-তত্ত্বের গূঢ় সংকেতবাহী গান হলেও, কবিরা রূপক হিসেবে তৎকালীন বাংলার যে সমাজচিত্র এঁকেছেন, তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার, বাংলা মেজর)          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত চর্যাপদ মূলত সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের গূঢ় ধর্মীয় সাধন-সংগীত । সাধক কবিরা তাঁদের নির্বাণ লাভের পথ বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে রূপক ও প্রতীকের আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু এই রূপকগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল সমকালীন বাংলার সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন ও চারপাশের পরিবেশ থেকে। যার ফলে-        সাধন-তত্ত্বের আড়ালে প্রাচীন বাংলার নদীমাতৃক প্রকৃতি, অন্ত্যজ শ্রেণির জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য, জাতীয় সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতিনীতি এক জীবন্ত আলেখ্য হয়ে ধরা দিয়েছে। মূলত ধর্মগ্রন্থ হয়েও চর্যাপদ তাই তৎকালীন অখণ্ড বাংলার সমাজ-ইতিহাসের এক অমূল্য দলিলে পরিণত হয়েছে।আর সেখানে আমরা তৎকালীন সমাজচিত্রে দেখি-  ...

সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতি বিবৃত করো।

সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতি বিবৃত করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর)।২০২৪ সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতি (Nature of Social Change)          সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজ একটি গতিশীল সত্তা।আর সেখানে সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্পর্কের রূপান্তরকে বোঝায়। তবে সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে ওঠে-        ১) সামাজিক পরিবর্তন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াঃ  সামাজিক পরিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে সমাজ ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। কোনো সমাজই চিরকাল স্থির বা স্থবির থাকতে পারে না।       ২)এটি একটি সার্বজনীন বিষয়ঃ পৃথিবীর প্রতিটি সমাজেই পরিবর্তন ঘটে। স্থান ও কালভেদে পরিবর্তনের ধরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু পরিবর্তন ঘটবেই—এটি একটি চিরন্তন সত্য। আদিম সমাজ থেকে শুরু করে আধুনিক শিল্পোন্নত সমাজ, সর্বত্রই এই পরিবর্তন বিদ্যমান।       ৩)গতির অসমতাঃ সা...

বিপ্রদাস পিপলাইয়ের 'মনসামঙ্গল' / ‘মনসা-বিজয়’ কাব্যের প্রথম পাঁচটি পালার বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো।

বিপ্রদাস পিপলাইয়ের 'মনসামঙ্গল' / ‘মনসা-বিজয়’ কাব্যের প্রথম পাঁচটি পালার বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো। এই অংশে লৌকিক ও পৌরাণিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় কীভাবে ঘটেছে?            আমরা জানি যে,পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৪৯৪-৯৫ খ্রি.) কবি বিপ্রদাস পিপলাই তাঁর ‘মনসা-বিজয় ’ কাব্য রচনা করেন। কাব্যের প্রথম পাঁচটি পালায় মূলত দেবখণ্ডের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এখানে লৌকিক দেবী মনসাকে পৌরাণিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার এক সার্থক প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।আর সেই প্রয়াসে দেখি-         সৃষ্টিতত্ত্ব ও দেবখণ্ডঃ  কাব্যের শুরুতে শূন্যপুরাণের মতো জগত সৃষ্টির রহস্য বর্ণিত হয়েছে। এরপর শিব ও গৌরী (পার্বতী)র বিবাহ এবং তাঁদের গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনী গুরুত্ব পেয়েছে।       মনসার জন্মঃ  কাহিনী অনুসারে শিবের বীর্য পদ্মপত্রে পতিত হলে সেখান থেকে এক সুন্দরী কন্যার জন্ম হয়-যিনি ‘পদ্মা’ বা ‘মনসা’। আসলে তিনি ছিলেন শিবের মানসকন্যা।       শিব-মনসার সাক্ষাৎ  ও দ্বন্দ্বঃ কালীদহে ভ্রমণকালে শিবের সঙ্গে মনসার দেখা হয়।মনসা নিজের পরিচয় দিলে শিব তাঁকে...