Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2025

রাজা নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটির বিকাশ বা মানসিক সংঘাত আলোচনা করো।

রাজা নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটির বিকাশ বা মানসিক সংঘাত আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।            •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটি একটি প্রতীকী চরিত্র।আর সেই চরিত্রের বিকাশ এবং মানসিক সংঘাতই নাটকের মূল উপজীব্য।তবে সুদর্শনার দ্বন্দ্ব মূলত রূপের প্রতি আকর্ষণ এবং অরূপের উপলব্ধির মধ্যে। যে উপলব্ধিতে আসে মানষিক সংঘাত ও পরিণতি। সেই সংঘাতে আমরা রাজা নাটকে দেখতে পাই- • সুদর্শনার মানষিক সংঘাত ও বিকাশঃ আমরা জানি যে, সুদর্শনার মানসিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে রাজা সম্পর্কে তার ভ্রান্ত ধারণা থেকে এবং তা চূড়ান্ত রূপ পায় অরূপকে রূপে বাঁধতে চাওয়ার মধ্যে দিয়ে।আর সেখান থেকে ঘটে মানষিক   সংঘাত। আর সেই সংঘাতের পরিণতি দানে আমরা দেখতে পাই-     • প্রথম পর্বঃ  রূপ-তৃষ্ণা। সুদর্শনা রূপ ও সৌন্দর্যের প্রতি বরাবরই অত্যন্ত আসক্ত। তিনি তাঁর স্বামীকে (রাজা বা অরূপ ব্রহ্ম) তাঁর অন্ধকার ঘরে দেখতে চান না, বরং বাহ্যিক রূপে তাঁকে দেখতে চান। রাজার অনুপম অরূপ সত্তাকে সে হৃদয়...

ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণগুলি আলোচনা করো।

ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,ভূগোল-নবম শ্রেণী)।          •আমরা জানি যে,ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়  সৃষ্টি হয় এই অঞ্চলের অনুকূল পরিবেশগত কারণে।তবে ঘূর্ণিঝড় হলো একটি উষ্ণ-কেন্দ্রিক নিম্নচাপ ব্যবস্থা যেটি প্রধানত উষ্ণ সমুদ্রের জলের উপর তৈরী হয় এবং সেখান থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টির মূল কারণগুলি  হলো- ১)উষ্ণ সমুদ্রের জলঃ  ঘূর্ণিঝড়ের মূল চালিকা শক্তি হলো সমুদ্রের জল।এর জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে 26.5° থেকে 27° সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক।এই উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সমুদ্রের জল থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়,যে বাষ্প বাতাসের সাথে উপরে উঠে  ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে। ২)গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টিঃ  উষ্ণ জল থেকে সৃষ্ট জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ ব্যাপকভাবে কমে যায়। আর যার ফলে একটি গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের হয়। ৩)সুপ্ততাপের জোগানঃ  উপরে ওঠা উষ্ণ,আর্দ্র বাতাস শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়।আর এই ঘনীভবনের সম...

বাংলার নাট্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নবান্ন নাটকটি গুরুত্ব আলোচনা করো ।

বাংলার নাট্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নবান্ন নাটকটি গুরুত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর)।               আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিজন ভট্টাচার্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নাটক নবান্ন। যে নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে একদিকে নিরন্ন মনুষের হাহাকার, অপরদিকে সুবিধাভোগী মজুদদারদের অন্যায় অপকর্ম হিসেবে কালোবাজারি চিত্র। পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের চরমতম শোষণের চিত্র। আর এখানে বাংলা নাট্য সাহিত্যে নাটকটির গুরুত্বে আমরা দেখি-   ১)গণনাট্য আন্দোলনের প্রবর্তন । আমরা জানি যে,'নবান্ন' নাটকটি ছিল ' ভারতীয় গণনাট্য সংঘের' এক ঐতিহাসিক প্রযোজনা। এই নাটকের মাধ্যমেই বাংলা নাটকের ইতিহাসে গণনাট্য আন্দোলন প্রকৃতভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শুধু তাই নয়,পেশাদারী মঞ্চের বাইরে এসে এই নাটক সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টকে মঞ্চে তুলে ধরে গণচেতনা জাগিয়ে তোলে। এরই পাশাপাশি নবান্ন  নাটকটি মঞ্চস্থ করে সংগৃহীত অর্থ দুর্ভিক্ষপীড়িতদের ত্রাণকার্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। অপরপক্ষে-       ২)সামাজিক বাস...

সীতার বনবাস' গ্ৰন্থটিতে তুলে ধরা হয়েছে নারীর প্রতি সমাজের অবিচার ও নির্মমতার এক মর্মন্তুদ ট্রাজেডি-আলোচনা করো ।

' সীতার বনবাস' গ্ৰন্থটিতে তুলে ধরা হয়েছে নারীর প্রতি সমাজের অবিচার ও নির্মমতার এক মর্মন্তুদ ট্রাজেডি-আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মাইনর)।          •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ' সীতার বনবাস' (১৮৬০) গ্রন্থটি কেবল ভবভূতির 'উত্তরচরিত' ও বাল্মীকির রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের সঙ্কলন নয়।এটিতে তুলে ধরা হয়েছে নারীর প্রতি সমাজের অবিচার ও নির্মমতার এক মর্মন্তুদ ট্র্যাজেডি। আস লে বিদ্যাসাগর এই অনুবাদে সীতাকে পৌরাণিক দেবী রূপে নয়, বরং মানবী রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন, যার জীবন লোকনিন্দা ও রাজধর্মের কাছে বলিদান হয়েছিল। আর সেই অনুবাদ গ্ৰন্থে আমরা দেখতে পাই-            • সীতার ট্র্যাজেডির মূল দিকগুলি সুস্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় সীতার ট্র্যাজেডিকে তুলে ধরা হয়েছে। আর ট্রাজেডিকে চারটি স্তরে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।আর সেই ভাগ গুলি হলো- ১)লোকনিন্দা ও তৎকালীন সমাজের নির্মমতাঃ  সীতার জীবনে ট্র্যাজেডির মূল কারণ হলো- নির্লজ্জ লোকনিন্দা। লঙ্কা থেকে ফিরে আসার পর অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে...

ব্রাহ্মণ্য যুগের শিক্ষা ও তার লক্ষ্য আলোচনা করো।

ব্রাহ্মণ্য যুগের শিক্ষা ও তার লক্ষ্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বৈদিক পরবর্তী যুগে স্থিতিশীল সমাজে সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত ব্রাহ্মণদের নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার যুগকে বলা হয় ব্রাহ্মণ্যশিক্ষার যুগ। এই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে নানা প্রশাসনিক নিয়মের বেড়াজাল না থাকলেও এখানে একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। তাই এই শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল সুসংগঠিত এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপথে গতিশীল। যেখানে একটা নিটল সামাজিক পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে প্রাচীন হিন্দু জীবনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হতো।আসলে-          ব্রাহ্মণ সমাজ শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিল বলেই শিক্ষাগ্ৰহণে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।মোট কথা হলো- ব্রাহ্মণ্যযুগে জাগতিক ও পারমার্থিক সবদিক থেকেই বিদ্যার প্রয়োজন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলেছে । আর সেখানে ব্রাহ্মণ্যশিক্ষার লক্ষ্যগুলি হলো- • আত্মার লক্ষ্যঃ ব্রাহ্মণ্য যুগের শিক্ষার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল - আত্মার বন্ধনমোচন। আর এই বন্ধনমোচন করে মানুষকে মুক্তি লাভ করতে হবে। সেখানে মো...

খেয়া' কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা'কেন বলেছেন ?দুই গ্রাম কীসের ব্যঞ্জনা বয়ে এনেছে? লেখো।

' খেয়া' কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা'কেন বলেছেন ?দুই গ্রাম কীসের ব্যঞ্জনা বয়ে এনেছে? লেখো।(পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ,নবম শ্রেণী)।        রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ' খেয়া' কবিতাটি চৈতালি কাব্যগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। আর সেই কবিতায় কবি 'সকাল হইতে সন্ধ্যা' কথাটি বলেছেন।যে কথাটির মধ্যে গভীর ব্যঞ্জনা নিহীত রয়েছে।আর সেখানে- ' সকাল হতে সন্ধ্যা' বলার কারণঃ  সাধারণভাবে 'সকাল' এবং 'সন্ধ্যা' শব্দ দুটি দিনের শুরু এবং দিনের শেষ সময়কে বোঝায়।আর এই দুই সময়েই নদীর এপার-ওপারের গ্রাম দুটিতে খেয়া নৌকায় মানুষের আনাগোনা চলতে থাকে। অর্থাৎ-এই সময়কালে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ও নিরন্তরভাবে চলে। যেখানে-         • সকাল ও সন্ধ্যার গভীরতর ব্যঞ্জনা• সকালঃ মানবজীবনের সূচনা বা জন্মকে ইঙ্গিত করে। সন্ধ্যাঃ  মানবজীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যুকে ইঙ্গিত করে।          আসলে কবি এই দুই শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, খেয়াঘাটে খেয়া নৌকার চলাচল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থাৎ সারাদিন ধরে চলে। ঠিক তেমনই জীবনরূপী নদীর স্রোতে মান...

নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো।

নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি মূলত ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তরকে কেন্দ্র করে। আর এই পটভূমিতে নাটকটির গুরুত্ব বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এই প্রেক্ষিতে এ নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমিতে পাই-         আমরা জানি যে,' নবান্ন' নাটকটি অবিভক্ত বাংলার ইতিহাসের এক চরম সংকটময় মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি।এই নাটকের পটভূমি প্রধানত নিম্নলিখিত দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে।আর সেই দুটি ঘটনা হলো-         ১)পঞ্চাশের মন্বন্তর (১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ)। এই পঞ্চাশের মন্বন্তর হলো নবান্ন নাটকের প্রধান পটভূমি। বাংলা ১৩৫০ সালে (ইং ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ) ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতিতে সরকারের অব্যবস্থা, খাদ্য মজুত করে রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ী ও জোতদারদের মুনাফা-লিপ্সা এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে ত...

শিখন কাকে বলে? শিখনের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখো।

শিখন(Learning) কাকে বলে? শিখনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার এডুকেশন)।         শিখনঃ  আমরা জানি যে,শিখন হলো এমন একটি সচেতন প্রক্রিয়া,যে প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা, অনুশীলন বা প্রশিক্ষণের প্রভাবে ব্যক্তির আচরণধারায় অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন সাধিত হয়। অর্থাৎ এখানে-              নতুন জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করার অন্যতম একটি প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে প্রাণীকে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে, তাকেই শিখন বলে।                     • শিখনের বৈশিষ্ট্য•      • আচরণের পরিবর্তন। আমরা জানি যে,শিখন সব সময় আচরণের পরিবর্তন বা আচরণের সম্ভাবনার পরিবর্তন ঘটায়। শুধু তাই নয়,এটি মানুষের পূর্বের আচরণকে পরিমার্জিত করতে পারে বা নতুন আচরণ যোগ করতে পারে।       • স্থায়ী পরিবর্তন।  শিখনজাত পরিবর্তন সাধারণত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী প্রকৃতির হয়। তবে এক্ষেত্রে ক্লান্তি,...

ডাকঘর নাটকের প্রধান চরিত্র অমল,"সে মুক্তিকামী আলোর প্রতীক"- আলোচনা করো ।

ডাকঘর নাটকের প্রধান চরিত্র অমল,"সে মুক্তিকামী আলোর প্রতীক"- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার)।            আমরা জানি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকের কেন্দ্রীয় ও প্রধান চরিত্র হলো অমল । এই অমলকে নাটকের মূল ভাবনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই প্রেক্ষিতে ডাকঘর নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমলের চরিত্রটি আলোচনা করা যেতে পারে নিম্নোক্তভাবে- ১) অমল কল্পনাপ্রবণ ও সুদূরের প্রতি আকর্ষণঃ- অমল একটি অসুস্থ, অনাথ বালক।কবিরাজের বারণ থাকায় সে গৃহবন্দী। কিন্তু তার মন ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকতে চায় না।কারণ বাইরের পৃথিবীর প্রতিটি সামান্য জিনিসও তার কাছে এক অসীম আকর্ষণের বিষয়।তার শিশুমন কল্পনা ও জিজ্ঞাসায় ভরপুর।সে দইওয়ালা, প্রহরী বা পথিকের জীবনযাত্রায় মুক্তির আনন্দ খুঁজে পায়।আর তখন সে দইওয়ালাকে বলে-     " আমি যদি তোমার সঙ্গে চলে যেতে পারতুম তো যেতুম।... তুমি যে কত দূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ শুনে আমার মন কেমন করছে।"           পরক্ষণেই অমল প্রহরীকে জিজ্ঞ...

উনিশ শতকের বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে প্যারিচাঁদ মিত্রের অবদান আলোচনা করো।

উনিশ শতকের বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে প্যারিচাঁদ মিত্রের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মাইনর-ইউনিট1)              আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা গদ্যের বিকাশে প্যারীচাঁদ মিত্র, যিনি সাহিত্যের আঙিনায় টেকচাঁদ ঠাকুর নামে অধিক পরিচিত। যিনি বাংলা গদ্যের বিকাশে বা অবদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দায়িত্ব সহকারে নিজের কাঁধে তুলে নেন। কারণ আমরা জানি যে,উনিশ শতকে যখন বাংলা গদ্য সংস্কৃত প্রভাবিত, কৃত্রিম সাধু ভাষার কঠিন বাঁধনে আবদ্ধ ছিল, তখন তিনি বাংলা ভাষাকে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি এনে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।আর সেই প্রেক্ষিতে আমারা বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর কৃতিত্ব বা অবদানে দেখতে পাই, সেগুলি হলো - ১)প্রথম সামাজিক সার্থক উপন্যাস রচনা। তাঁর লেখা ' আলালের ঘরের দুলাল ' (১৮৫৭) উপন্যাসটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অতঃপর এই উপন্যাস রচনার পর বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের জন্ম হয়। শুধু তাই নয়, বাংলা গদ্যের বিষয়বস্তু ধর্ম ও ইতিহাস থেকে সরে এসে সমাজ ও বাস্তব জী...

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সীতার বনবাস অনুবাদ গ্ৰন্থটিতে নারী একদিকে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অপরদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কঠোর সমালোচনা করেছেন-আলোচনা করো ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সীতার বনবাস অনুবাদ গ্ৰন্থটিতে নারী একদিকে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অপরদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কঠোর সমালোচনা করেছেন-আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  ' সীতার বনবাস ' অনুবাদ রচনার মাধ্যমে প্রধানত এ সমাজের নারী-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কঠোর সমালোচনা-র  মধ্য দিয়ে অনুবাদ গ্ৰন্থটিকে সার্থকমন্ডিত করে তুলেছেন।শুধু তাই নয়, এই অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে নারী সমাজকে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছেন তেমনিভাবে পুরুষ সমাজকে সতর্ক করে দিয়েছেন।আর এই প্রেক্ষিতে সেখানে আমরা দেখি যে-         • মূল রামায়ণ বা ভবভূতির 'উত্তরচরিত ' অবলম্বনে সীতার বনবাস অনুবাদ গ্ৰন্থটি রচিত হলেও, বিদ্যাসাগর এই রচনার মাধ্যমে সীতার বনবাসের করুণ আখ্যানকে ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা সমাজের প্রেক্ষাপটে ফেলে সমকালীন নারীজাতির প্রতি ঘটে চলা অন্যায়, অবিচার ও অসহায়ত্বের চিত্রটি তুলে ধরেছেন...

বৈদিক যুগে নারীশিক্ষা আলোচনা করো।

বৈদিক যুগে নারীশিক্ষা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার, এডুকেশন, মাইনর)।     আ লোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বৈদিক যুগে সমাজের নারীর স্থান ছিল অতি উচ্ছে। শিশুকে শিক্ষায় নারী পুরুষের ভেদ ছিল না সে যুগে শিক্ষায় নারী পুরুষের ভেদ ছিল না। তবে নারীর বেদে অধিকার ছিল এবং তারা যজ্ঞে তৎকালীন সময়ে অংশগ্রহণ করতেন। শুধু তাই নয়-          গুরুগৃহে বাসকালে নারীরা ব্রহ্মচর্য পালন করতেন। যেখানে নারীরা গুরুগৃহে থেকে বেদ,বেদাঙ্গ,উপনিষদ প্রভৃতি গ্রন্থ পড়তেন। তবে অথর্ববেদে বলা হয়েছে যে, ছাত্রীর জীবন অর্থাৎ পড়াশোনা শেষ না হলে কুমারীদের বিবাহে কোনমতেই অধিকার দেওয়া হতো না। তবে-         বৈদিক যুগে মহিলারা শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে মন্ত্রদ্রষ্টাও ছিলেন। এছাড়াও বিশ্ববারা,ঘোষা, লোপামুদ্রা,অপালা, ইন্দ্রাণী প্রমুখ বিদূষীরা ঋগ্বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ছিলেন বলে এদের ঋত্বিক বলা হয়েছে। কিন্তু-         বৈদিক যুগে নারীদের শুধু উপনয়ন ও সাবিত্রী মন্ত্রেই অধিকার ছিল না।তারা বেদ অধ্যায়ন ও অধ্যাপনা করতেন। বৈদিক যুগে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' নাটকের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' নাটকের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার)।     আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,' ডাকঘর' একটি প্রতীকাশ্রয়ী বা রূপকধর্মী নাটক।আর নাটকটির নামকরণ আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হলেও সেখানে এর গভীর প্রতীকী ব্যঞ্জনা রয়েছে। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা নাটকটিকে দুটি দিক থেকে এর সার্থকতা বিচার করতে পারি- ১)আক্ষরিক অর্থে নাটকটির নামকরণের সার্থকতাঃ          আমরা জানি যে, ডাকঘর নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র বালক অমল ।আর তার ঘরের বাইরের জগতকে জানার প্রধান অবলম্বন হল তার জানালার সামনে ডাকঘরটি।যেখানে নাটকটির কেন্দ্রবিন্দু-        ' ডাকঘর'।  আর সেখানে নাটকের সমস্ত ঘটনা এই ডাকঘরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।আর সেখানে ডাকঘরের কাজ, রাজার চিঠি আসার সম্ভাবনা এবং অমলের সেই চিঠি পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এগুলিই হলো নাটকের মূল চালিকাশক্তি।পাশাপাশি-        দইওয়ালা, প্রহরী, মোড়ল, ঠাকুরদা প্রমুখ চরিত্ররা ডাকঘরের সঙ্গে কোনো ন...

নবান্ন' নাটকটি বাংলা নাট্যসাহিত্য এবং গণনাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে ঐতিহাসিক পটভূমিকায় এর গুরুত্ব গুরুত্ব আলোচনা করো।

' নবান্ন' নাটকটি বাংলা নাট্যসাহিত্য এবং গণনাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে ঐতিহাসিক পটভূমিকায় এর গুরুত্ব গুরুত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর, DS10,Unit-III) ১. নবান্ন নাটকটি সামাজিক বাস্তবতার দলিল । আমরা জানি যে, ইতিপূর্বে বাংলা নাটকে মূলত রাজা-রাজরা বা মধ্যবিত্ত সমাজের কাহিনি প্রাধান্য পেত।আর সেখানে 'নবান্ন' সর্বপ্রথম বাংলার গ্রাম ও কৃষক সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে, বিশেষত মন্বন্তরের ভয়াবহ চিত্রকে নাট্যকার মঞ্চে নিয়ে আসেন। সেই হিসেবে এটি সমাজজীবনের গভীর সংকটের এক বিশ্বাসযোগ্য দলিল হিসেবে চিহ্নিত। ২.নবান্ন নাটকটি গণনাট্য আন্দোলনের প্রবর্তনা। ভারতীয় গণনাট্য সংঘ এই নবান্ন নাটকটিকে মঞ্চস্থ করে।আর এই 'নবান্ন'- নাটকের হাত ধরেই বাংলা নাটকে এক নতুন ধারা, অর্থাৎ গণনাট্য আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তবে -            এই নাটক কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং বলা যেতে পারে গণচেতনা জাগিয়ে তোলার এবং সমাজে পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে, এই নাটকটির অভিনয় দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের জন্য ...

আত্মহত্যাকে নৈতিক অপরাধ বলা যেতে পারে কী? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও।

আত্মহত্যাকে নৈতিক অপরাধ বলা যেতে পারে কী? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, দর্শন মাইনর, তৃতীয় ইউনিট)।      আমরা আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি যে,আত্মহত্যাকে নৈতিক অপরাধ বলা যেতে পারে কিনা, এই প্রশ্নটি বেশ জটিল,বিতর্কিত। শুধু মাত্র তাই নয়,এর উত্তর বিভিন্ন দার্শনিক, ধর্মীয় ও আধুনিক মনস্তাত্ত্বিকগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।আর সেখানে-            • ঐতিহ্যগতভাবে অনেক ক্ষেত্রেই এটিকে নৈতিক অপরাধ (বা পাপ) বলা হয়। তবে আধুনিক সমাজে এটিকে প্রধানত মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্কট বা মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা হয়েছে। যেখানে অপরাধের ধারণা বা বিষয়টি ক্রমশ গৌণ হয়ে আসছে।    • আত্মহত্যাকে নৈতিক অপরাধ বলার পক্ষে যুক্তি•                                ( ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিকোণ ) ১)ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয় যে,প্রায় সব প্রধান ধর্মেই (হিন্দু,ইসলাম, খ্রিস্টান) জীবনকে ঈশ্বরের দান বা পবিত্র ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকটিতে 'রূপের মোহ'এবং 'অরূপের উপলব্ধি' কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকটিতে 'রূপের মোহ'এবং 'অরূপের উপলব্ধি' কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS10,Unit-3)।            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকটি একটি কালজয়ী রূপক-সাংকেতিক নাটক।যে নাটকে তিনি ' রূপের মোহ' (জাগতিক বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ) এবং ' অরূপের উপলব্ধি ' (অদৃশ্য, অসীম বা সত্যের জ্ঞান) এই দুটি তত্ত্বকে কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্বের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।আর সেখানে রানী সুদর্শনা চরিত্রটির বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাট্যকার এই আধ্যাত্মিক যাত্রাপথকে নির্দেশ করেছেন। সেই যাত্রাপথে আমরা দেখি-       রূপের মোহ। সুদর্শনার ভুল যাত্রা এখানেই।  রানী সুদর্শনাকে এই নাটকে মানবাত্মার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।যেখানে এই সুদর্শনা রাজাকে (ঈশ্বর বা পরম পুরুষকে) দেখতে চান তাঁর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপে। আর সেই ইন্দ্রিয়গ্ৰাহ্য রূপ হলো এ নাটকের 'রূপের মোহ'। আবার এর পাশাপাশি-      • রাজার অদৃশ্যতা ও অন্ধকার ঘর।  এ নাটকে রাজা সর্বদ...

নবান্ন নাটকটিতে 'রূপের মোহ'এবং 'অরূপের উপলব্ধি' কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো।

নবান্ন নাটকটিতে 'রূপের মোহ'এবং 'অরূপের উপলব্ধি' কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার,বাংলা মেজর,DS10, Unit-3) আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' নাটকটি ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তরকে কেন্দ্র করে রচিত। যেখানে এই নাটকে রূপের মোহ এবং অরূপের উপলব্ধি বিষয় দুটি গভীরভাবে জীবন বাস্তবতার নিরিখে প্রকাশিত হয়েছে।আর সেখানে আমরা দেখি-                          • রূপের মোহ•           • গ্রামীণ জীবনের রূপ । নবান্ন নাটকের প্রথম দিকে আমরা দেখি যে- প্রধান সমাদ্দার এবং অন্যান্য চাষী পরিবারের জীবনে যে সরল, শান্ত ও স্বাভাবিক গ্রামীণ জীবনের রূপ ছিল।যা এখানে 'রূপের মোহ' হিসেবে ধরা হয়েছে। আর সেখানে ফসল ফলানো, আনন্দ-উৎসব এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে থাকার যে পরিচিত ছবি, সেটাই ছিল তাদের জীবনের একমাত্র আকাঙ্ক্ষিত 'রূপ'। তবে-        • শহরের আপাত-প্রাচুর্যের তাদের মোহ । আমরা জানি যে,মন্বন্তরে...

রাজা নাটকের প্রশ্ন

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকটি একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক (Symbolic and Allegorical play)। এই নাটকের পরীক্ষা উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি প্রধানত এর ভাববস্তু, চরিত্র বিশ্লেষণ, সাংকেতিক তাৎপর্য এবং নাট্যশৈলীর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো: বিষয়বস্তু ও তাৎপর্যমূলক প্রশ্ন  * 'রাজা' নাটকের মূল ভাববস্তু বা অরূপ-তত্ত্ব আলোচনা করো।  * এই নাটকের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।  * নাটকের 'অন্ধকার ঘর' কিসের প্রতীক? সুদর্শনার এই ঘরে রাজার সঙ্গে মিলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।  * নাটকটিতে রূপের মোহ এবং অরূপের উপলব্ধি কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো। চরিত্র বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন  * সুদর্শনা চরিত্রটির বিকাশ বা মানসিক সংঘাত আলোচনা করো। এই চরিত্রের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ কী ভাবনা প্রকাশ করেছেন?  * রাজা চরিত্রটির স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। তাঁকে কেন অদৃশ্য রাখা হয়েছে?  * ঠাকুরদা এবং সুরঙ্গমা চরিত্র দুটি নাটকের ভাববস্তু ফুটিয়ে তুলতে কী ভূমিকা নিয়েছে, তা লেখো।  * কাঞ্চীরাজ চরিত্রটি কীসের প্রতীক? নাটকে তার ভূমিকা আলোচনা করো।...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকের প্রমোদোদ্যানের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা নাটকের প্রমোদোদ্যানের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা আলোচনা করো। •অথবা• 'অন্ধকার ঘর' 'পথ' ও 'বসন্ত ঋতুর' ন্যায় প্রমোদোদ্যানে অগ্নিকান্ডের দৃশ্যটি রাজা নাটকে বিশেষ তাৎপর্যবহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS10,Unit3)              আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকে প্রমোদোদ্যানে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, এই বিষয়টি নাটকটির মূল ভাববস্তু প্রকাশের ক্ষেত্রে এক চূড়ান্ত মোড় হিসেবে কাজ করেছে। আর সেই প্রেক্ষিতে এই প্রমোদোদ্যানে এই রাজা নাটকের গুরুত্ব বহুমাত্রিক।এই বহুমাত্রিক দৃষ্টিতে-           আমরা রাজা নাটকের সপ্তম দৃশ্যে দেখি যে, রানীর প্রাসাদের আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কাঞ্চিরাজ প্রাণভয়ে পথ খুঁজছেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ সুন্দর রাজবেশীকে রাজা মনে করে সুদর্শনা তাকে রক্ষা করতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজা নন, ভন্ড পাষণ্ড। একথা জানালে রানী নিজে ঘৃণায় দগ্ধ হন। অতঃপর তিনি যখন জানলেন তিনি যাঁকে রা...

রূপক সাংকেতিক নাটক হিসেবে রাজা নাটকের স্বার্থকতা আলোচনা করো।

রূপক সাংকেতিক নাটক হিসেবে রাজা নাটকের স্বার্থকতা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর ডিএস10, Unit III)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ' রাজা' নাটক' টি একটি স্বার্থক রূপক-সাংকেতিক নাটক।যে নাটকটির মূল সার্থকতা নিহিত আছে এর ভাববস্তু, চরিত্র এবং নামকরণে প্রতীক বা সংকেতের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে।আর সেই প্রেক্ষিতে আমরা প্রথমেই বলতে পারি রূপক সাংকেতিক নাটক কী? সেই আলোচনায় আমরা বলতে পারি-           •রূপক-সাংকেতিক নাটক হলো সেই নাটক, যেখানে আক্ষরিক কাহিনীর আড়ালে একটি গভীর আধ্যাত্মিক, দার্শনিক বা নৈতিক সত্যকে সংকেতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।আর সেই প্রেক্ষিতে 'রাজা' নাটকে প্রেম, ঈশ্বর, সৌন্দর্য ও মানুষের মুক্তি- এই সমস্ত গভীর বিষয়গুলিকে সংকেতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।আর সেখানে 'রাজা' নাটকের প্রতিটি চরিত্র, স্থান ও ঘটনা এক-একটি গভীর ভাবনার প্রতীক । এই সকল বিষয়গুলি সফল ব্যবহার রাজা নাটকটি সার্থক সার্থক রূপক সাংকেতিক নাটকের সার্থকতা পেয়েছে।আর সেখানে-         •...

কবি জীবনানন্দ দাশের 'তিমির হননের গান' কবিতায় একদিকে দেখা যায় আশা ও নিরাশার দ্বন্দ্ব, অপরদিকে দেখা যায় আলো ও অন্ধকারের দ্বন্দ্ব- আলোচনা করো।

কবি জীবনানন্দ দাশের 'তিমির হননের গান' কবিতায় একদিকে দেখা যায় আশা ও নিরাশার দ্বন্দ্ব, অপরদিকে দেখা যায় আলো ও অন্ধকারের দ্বন্দ্ব- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণি চতুর্থ সেমিস্টার)         •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, মৃত্যু চেতনার কবি জীবনানন্দ দাশ ' তিমির হননের গান' কবিতায় তিমির (অন্ধকার)ও আলোর চিরন্তন দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন।যেখানে ' তিমির' শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক দুঃখ-কষ্ট এবং অন্ধকারের প্রতীক।আর আলো জ্ঞান, মুক্তি ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।শুধু তাই নয়-        তিমির হননের গান কবিতায় কবি মানবজীবনের গভীর বেদনা এবং তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা আশার এক প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেছেন।যেখানে অন্ধকারকে ধ্বংস করে আলোর অভিমুখে যাত্রার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে।আর সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশে আমরা দেখতে পাই যে-           • অন্ধকার ও আলোর দ্বন্দ্বঃ আলোচ্য কবিতায় 'তিমির' বলতে শুধুমাত্র শারীরিক অন্ধকারকেই বোঝানো হয়নি, বরং বলা যেতে পারে তিমির মানুষের মনের গভীর হতাশা, ভয়, অজ্ঞানতা, এবং সামাজিক ...

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         • নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি•       • আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,' নবান্ন' নাটকটি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত বাংলায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রচিত। আর সেই বিপর্যয়কে সামনে রেখে আমরা বলতে পারি যে , নাটকটির ঐতিহাসিক পটভূমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।আর সেই দুটি ঐতিহাসিক পটভূমি হলো- ১.•পঞ্চাশের মন্বন্তর। যে মন্বন্তর ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ হিসেবে বিবেচিত। আর  এটিই নাটকের প্রধান পটভূমি। আমরা জানি ১৯৪৩ সাল,বাংলা ১৩৫০ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত বাংলায় এক মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যে দুর্ভিক্ষের ফলে খাদ্যশস্যের অভাব, সরকারের উদাসীনতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে খাদ্য মজুত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ও মুনাফা লোটার ফলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অনাহার, অপুষ্টি ও রোগে মারা যায়।তবে            •এই মন্বন্তর বাংলার গ্রামীণ কৃষক সমাজের...

তোমরা কি সব বধির হয়ে গেছ বাবু-কিছু কানে শোনা না?অন্তর কি সব তোমাদের পাষাণ হয়ে গেছে বাবু।"-কে কাদের প্রতি এই কথাটি বলেছেন? এই কথাটি বলার কারণ কী? আলোচনা করো ।

" তোমরা কি সব বধির হয়ে গেছ বাবু-কিছু কানে শোনা না?অন্তর কি সব তোমাদের পাষাণ হয়ে গেছে বাবু।"-কে কাদের প্রতি এই কথাটি বলেছেন? এই কথাটি বলার কারণ কী? আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।            •'নবান্ন'  নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে আলোচ্য উক্তিটি করেছে মন্বন্তর এবং যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত ছিন্নমূল প্রধান সমাদ্দার মহাশয়। সে নিরঙ্কুশ কলকাতা শহরের এক বড়ো বাড়িতে, যেখানে বিবাহের উৎসব চলছে,- সেদিক হাত তুলে চেঁচিয়েছে। ব্যাপক অর্থে বলা যায় যে,প্রধান সমাদ্দার শহরে ধনী মানুষের উদ্দেশ্যে এই উক্তি করেছে। যেখানে-            গ্ৰামের না খেকো মানুষগুলি শহরে এসে শহরের ধনী মানুষদের দেখে বুঝতে পেরেছে যে, এইসব মানুষের হৃদয়ে দয়ামায়া,করুণা লেশমাত্র নেই। যান্ত্রিকতায় আচ্ছন্ন এইসব মানুষ পাথরের মতো চলৎশক্তিহীন। দরিদ্র মানুষের কান্না ও আর্তনাদ তাদের কানে পৌঁছায় না। তবুও-        রায় মহাশয়ের মতো মানুষেরা আইন-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাজার লোকের ভুরিভোজের ব্যবস্থা...

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকের নামকরণের স্বার্থকতা বিচার করো।

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকের নামকরণের স্বার্থকতা বিচার করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিজন ভট্টাচার্যের কালজয়ী নাটক 'নবান্ন'-এর নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়। তবে এখানে নামকরণটির সার্থকতা বোঝার জন্য এর আক্ষরিক ও ব্যঞ্জনামূলক উভয় অর্থ আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ শিল্পের নামকরণও শিল্প কুশলতার বিচার্য বিষয়। আর নামকরণের মধ্যে দিয়ে শিল্পীর মানসিকতার পরিচয় অভিব্যক্ত হয়। আর সেই কারণে নাটকের শিরোনাম নির্মাণের ক্ষেত্রে নাট্যকারেরা নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়ে প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। তাই আমরা সমগ্র নাটকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও তার পরিপ্রেক্ষিতে হাহাকার, দুর্ভিক্ষ, মড়ক ইত্যাদি দেখতে পাই। আর সেখানে-        নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য নবান্ন নাটকের নামকরণ রচনার ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি পরিচয় দিয়েছে।নবান্ন কথাটির অর্থ নতুন অন্ন।বাঙালি সমাজের নতুন চাল উঠলে তা নিয়ে নানা খাদ্য খাবার তৈরি হয় এবং এই উপলক্ষ্যে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। আর এ নাটকে নাট্যকার একদিকে যেমন বিশ্বয...

ম্যাগমা ও লাভা কী আলোচনা করো।

ম্যাগমা ও লাভা কী? সংক্ষেপে আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নবম শ্রেণি ভূগোল)        আমরা জানি যে,ম্যাগমা হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে থাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত গলিত বা অর্ধ-গলিত শিলা পদার্থ।আর এই পদার্থ-         যখন পৃথিবীর অন্তর্গত স্তরে (crust বা mantle-এর নিচে) শিলা অত্যন্ত তাপ ও চাপে গলে তরল অবস্থায় থাকে, তখন সেই গলিত পদার্থকে ম্যাগমা (Magma) বলে।          এটি কঠিন শিলা, তরল শিলা এবং গ্যাসীয় পদার্থের (যেমন জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড) একটি মিশ্রণ। মোট কথা ম্যাগমা হলো- পৃথিবীর গভীরে থাকা উত্তপ্ত গলিত শিলা, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মিশ্রণ। যে মিশ্রণে  সিলিকা, লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, গ্যাস ইত্যাদি পদার্থ থাকে। আর -           • এই ম্যাগমা যখন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় বা ভূত্বকের ফাটল দিয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়। আসলে            •এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা (Lava) বলা হয়। বাইরে ব...

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রাসঙ্গিক? তার প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রাসঙ্গিক? তার প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর, প্রথম ইউনিট)।              • আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বৌদ্ধযুগে যে বৌদ্ধ বিহারগুলিতে যে গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল-সেই শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমান সময়কালে শিক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। তার প্রধান কারণগুলি আমরা নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো- ১)নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ           • মূল্যবোধের শিক্ষাঃ  আমরা জানি যে,আধুনিক শিক্ষায় যেখানে প্রধানত জ্ঞান অর্জন ও ব্যবহারিক দক্ষতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আর সেই গুরুত্বে বৌদ্ধ শিক্ষা নৈতিকতা, করুণা, অহিংসা এবং ধ্যানের মাধ্যমে মনের প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই মূল্যবোধ গুলি বর্তমান সমাজের অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।      • চরিত্রের পরিপূর্ণ বিকাশঃ বৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর চরিত্রের পরিপূর্ণ বিকাশ । যে...

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকটি দুর্গতি ও প্রতিরোধের নাটক- আলোচনা করো

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকটি দুর্গতি ও প্রতিরোধের নাটক- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11,Unit-4)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিজন ভট্টাচার্যের ' নবান্ন ' নাটকটি বাংলা নাট্য সাহিত্যের ইতিহাসে এক জীবন্ত দলিল।আর সেই  নবান্ন নাটকের প্রধান উপজীব্য বিষয় হল- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ভয়াবহ দুর্গতি  এবং সেই দুর্গতিকে অতিক্রম করে মানুষের প্রতিরোধ  ও নতুন জীবন গড়ার সংকল্প।আর সেই সংকল্পের নিরিখে বলা হয়-' নবান্ন' নাটকটি দুর্গতি ও প্রতিরোধের নাটক।' যেখানে- ১ . 'নবান্ন' নাটকটি দুর্গতির নাটকঃ আমরা জানি'নবান্ন' নাটকটি তৎকালীন বাংলার  অসংখ্য মানুষের চরম দুঃখ, কষ্ট এবং বিনাশের এক মর্মস্পর্শী দলিল। যেখানে নাটকের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে মন্বন্তরের ভয়াবহ ছবি। আর সেই ছবিতে উঠে এসেছে-        •  গ্রামীণ দুর্গতি । সেখানে আমরা দেখি, ধানের ফসল তোলার পরেও কৃষকের ঘরে ধান নেই। জোতদার ও মহাজনের শোষণ এবং মুনাফাখোরদের মজুতদারির ফলে সামান্য খাদ্যও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে ...

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকে দেখা যায়-"একদিকে খাদ্যের ছড়াছড়ি অপরদিকে খাদ্যের অভাবে মানুষের তীব্র হাহাকার"-আলোচনা করো।

বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকে দেখা যায়-"একদিকে খাদ্যের ছড়াছড়ি অপরদিকে খাদ্যের অভাবে মানুষের তীব্র হাহাকার"-আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS10, Unit-4)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,' নবান্ন' নাটকে বিজন ভট্টাচার্য ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে বাংলার সমাজ জীবনের দুটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছেন। যেখানে একদিকে খাদ্যের ছড়াছড়ি বা প্রাচুর্য এবং অপরদিকে খাদ্যের জন্য মানুষের তীব্র হাহাকার।এরই পাশাপাশি সমভাবে চলছে ব্লাক মার্কেট।যার ফলে সৃষ্টি হয় দুর্ভিক্ষ।আর সেই প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাই - ১)  দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতাঃ  নবান্ন নাটকের মূল অংশ জুড়ে আছে খাদ্যহীন মানুষের এক করুণ চিত্র। বিশেষ করে প্রধান সমাদ্দার ও তার পরিবারের মতো গ্রামের অসংখ্য কৃষক পরিবার খাদ্যের অভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ফসল তোলার পরেও কৃষকের ঘরে ধান নেই। আবার দুর্ভিক্ষের কারণে তাদের সামান্য সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। তাই খাদ্য ও ঋণ পরিশোধের চাপে প্রধান সমাদ্দার ও কুঞ্জের মতো কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।আর সেখানে আমরা ...

বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এডুকেশন মাইনর,পঞ্চম সেমিস্টার)।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ আব্দের কিছু আগে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত গিরিপথ দিয়ে আর্যরা ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। তবে তার আগে ভারতে ছিল আদিম আদিবাসী ও দ্রাবিড় জাতির বাস। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে, প্রাচীন ভারতের জাতীয় চরিত্র আর্য ও  অনার্য উভয়ের বৈশিষ্ট্য দিয়েই রচিত হয়েছিল। সেযুগে জ্ঞান সাধনায় গড়ে উঠেছিল বেদ,উপনিষদ, দর্শন ও সাহিত্য ইত্যাদি।আর এই প্রেক্ষাপটে বৈদিক যুগের শিক্ষার যে বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই,তাহলো-            •বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো গুরুকুলভিত্তিক শিক্ষা।আর সেখানে শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল নৈতিক, আধ্যাত্মিক এবং চারিত্রিক বিকাশ। শুধু তাই নয়, সে যুগে শিক্ষা ছিল বিনামূল্যে ও গুরু-শিষ্যর সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। তবে সেকালে শিক্ষা গ্ৰহণে উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থীরাই বেশি সুযোগ পেত। কিন্তু বৈদিক যুগে শিক্ষা ছিল প্রধানত আবাসিক বা ...

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তাঁর জীবন অভিজ্ঞতা, দার্শনিকতা ও রসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়,তার আলোচনা করো ।

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তাঁর জীবন অভিজ্ঞতা, দার্শনিকতা ও রসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়,তার আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11, ইউনিট3)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম চক্রবর্তীর ' ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্ৰন্থটি একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। শুধু তাই নয়,এটি বৈচিত্র্যময়, পাগলাটে, কৌতুকপূর্ণ এবং একাকী জীবনের অভিজ্ঞতার এক অনবদ্য দলিলও বটে।যে দলিলে কেবলমাত্র ঘটনার বিবরণ নয়, বরং বলা যেতে পারে এটি লেখকের নিজস্ব দার্শনিক ও রসিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের মূল্যায়নও।আর সেই মূল্যায়ণে আমরা দেখতে পাই -        ' ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থের লেখকের মূল অভিজ্ঞতা পাঠক সমাজকে এক ভিন্ন রসবোধে উন্নীত করে।আর সেই রসবোধে শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনের অভিজ্ঞতা গুলিকে নিম্নলিখিত দিকগুলি আলোচনা করা যেতে পারে।      •১) সাহিত্য জীবন ও বন্ধু-স্মৃতিঃ আলোচ্য আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে শিবরাম তাঁর শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেন। আর সেই পর...

দামিনীর মুখ দিয়ে এছাড়া আর কোন জবাব বার হল না…” দামিনীর মুখ দিয়ে কোন্ জবাব বের হয়েছিল? হলুদ পোড়া গল্প কাহিনী অবলম্বনে ঘটনাটি উল্লেখ করো।

"দামিনীর মুখ দিয়ে এছাড়া আর কোন জবাব বার হল না…” দামিনীর মুখ দিয়ে কোন্ জবাব বের হয়েছিল? হলুদ পোড়া গল্প কাহিনী অবলম্বনে ঘটনাটি উল্লেখ করো(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা )।        • আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, মানিক  বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ হলুদ পোড়া ’ গল্পে দামিনী একমাত্র নারী চরিত্র,যে জবাব দিয়েছিল- সে চাটুজ্যে বাড়ির শুভ্রা, এবং বলাই চক্রবর্তী তাকে খুন করেছে।          হঠাৎ বাতাস লেগে আকস্মিকভাবে নবীনের স্ত্রী দামিনী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অতঃপর কুঞ্জ গুনিনকে ডেকে আনা হয় দামিনীকে সুস্থ করে তোলার জন্য।কুঞ্জ গুনিন প্রথম দর্শনেই দামিনীর মধ্যে অশরীরী আত্মার অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করে। অতঃপর কুঞ্জ বারান্দা থেকে সকলকে নেমে যেতে বলেন।সেই বারান্দায় জল ছিটিয়ে মন্ত্র পড়তে পড়তে দামিনীর এলোচুল দাওয়ার একটা খুঁটির সঙ্গে বাঁধে কুঞ্জ গুনিন। তারপর        কুঞ্জ গুনিন নানাদিকে ঘুরে ঘুরে দুর্বোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অতঃপর সে মালসাতে আগুন করে তাতে শুকনো পাতা আর শিকড় পোড়াতে থাকে। চাম...

গাঁ-সুদ্ধ লোক যেন অপ্রস্তুত হয়ে রইল।” -গ্রামের লোকদের এই অপ্রস্তুত হওয়ার কারণ কী ?গল্প কাহিনী অবলম্বনে আলোচনা করো

" গাঁ-সুদ্ধ লোক যেন অপ্রস্তুত হয়ে রইল।” -গ্রামের লোকদের এই অপ্রস্তুত হওয়ার কারণ কী ?গল্প কাহিনী অবলম্বনে আলোচনা করো( পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণি, চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা)            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ হলুদ পোড়া’ গল্পটিতে কার্তিক মাসের মধ্যভাগে তিনদিনের ব্যবধানে উল্লিখিত গ্রামটিতে দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। আর সেই ঘটনায় আমরা দেখি- মধ্যবয়সি জোয়ান বলাই চক্রবর্তীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল গ্রামের দক্ষিণে ঘোষদের মজা পুকুরের ধারে একটা মরা গজারি গাছের তলায়। তবে অনুমান করা হয় যে, সম্ভবত লাঠির অনেকগুলি আঘাতে তার মাথাটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। আবার -           আলোচ্য গল্পে দ্বিতীয় খুনটি ছিল শুভ্রা নামে ষোলো-সতেরো বছরের একটি রোগা ভীরু মেয়ের। গ্রামের শেষ সন্ধ্যাবাতিটি যখন জ্বালা হয়েছে এরকম সময়ে বাড়ির পিছনের ডোবার ঘাটে গলা টিপে মেরে কেউ শুভ্রার মৃতদেহ ফেলে রেখে গিয়েছিল। তবে-             বলাই চক্রবর্তীর অপমৃত্যু গ্রামের লোকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল ...

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হলুদ পোড়া গল্পটিতে অন্ধবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা ও মনোবিকলন তুলে ধরা হয়েছে -আলোচনা করো।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হলুদ পোড়া' গল্পটিতে অন্ধবিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা ও মনোবিকলন তুলে ধরা হয়েছে -আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা)।            •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ' হলুদ পোড়া ' গল্পটি শুধুমাত্র একটি রহস্য বা ভৌতিক আখ্যান নয়, বরং বলা যায় যে,এটি একটি গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস, মনস্তত্ত্বের জটিলতা এবং প্রচ্ছন্ন যৌনবিকারের এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।যে বিশ্লেষণে দেখা যায় ভৌতিক অন্ধবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতা এবং মনোবিকলন।আসলে-           •' হলুদ পোড়া'গল্পটি একটি গ্রামীণ পটভূমিতে দুটি রহস্যময় খুনের ঘটনা দিয়ে শুরু হয়। যেখানে একজন মাঝবয়সী পুরুষ বলাই চক্রবর্তী এবং একজন যুবতী নারী শুভ্রা খুন হয়।তবে এই দুটি খুনের কোনো সুস্পষ্ট সংযোগ খুঁজে না পাওয়ায় গ্রামের মানুষের কল্পনা ও গুজব ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর সেই গুজব ও কল্পনার মধ্যে পাই-       • গভীর রহস্য ও কুসংস্কারঃ মানিক বন্দ্য...

Madhyamik Admission December 2025.

  Madhyamik Admission December 2025 • Admission for Madhyamik (Secondary) Session of December 2025 through Online Process Will be Started on 09-10-2025 to 11-12-2025 • Online Editing/Correction option for Madhyamik (Secondary) December 2025 admission session will be Started on 20-12-2025 to 23-12-2025 • All Original Documents Submitted at the time of Online Admission. ** Documents- Class VIII,XI Pass Transfer Certificate (Original & two copies Xerox with self attested) ** Madhyamik fail Registration Certificate/Admit Card.( Original & two copies Xerox with self attested) ** Self Declaration Letter from the Candidate. *** Adhar Card for Residential Certificate ( Original & two copies Xerox) ** Passport Size Colour Photo. ** If SC,ST,PH Certificate (Original and two copies Xerox with self attested) ••• All Original Documents are required at the time of Spot Verification.